মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফুল্ল চন্দ্র দাস মৃত্যু বরন করেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) আনুমানিক সকাল ৮টায় শাল্লা ইউনিয়নের রৌয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


জানতে চাইলে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফুল্ল চন্দ্র দাসের ছেলে বিদ্যুত দাস জানান, আজ সকাল অনুমান ৮ টার সময় আমার বাবা মারা যান। পরে আমরা ইউএনও স্যারকে জানালে, তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও থানার পুলিশ পাঠিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) প্রদান করেন। আমার বাবার কোনো শারিরীক সমস্যা ছিল না, বয়স প্রায় ৮০ বছর হয়েছিল। গার্ড অব অনারের পর আমার বাবাকে বাহাড়া শশ্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করছি।

অন্যদিকে জানা যায়, হবিবপুর ইউনিয়নের সাউধেরশ্রী গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রভাংশু চৌধুরী মৃত্যুবরন করেন। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল অনুমান ৬ ঘটিকায় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি মৃত্যুকালীন সময় তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। প্রয়াত প্রভাংশু চৌধুরীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে সিলেট চালিবন্দর শশ্মানে।

তবে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রভাংশু চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হলেও, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী কোনো ভাতা গ্রহন করেন নি। এমনটাই জানান প্রয়াত প্রভাংশু চৌধুরীর আপন ভাতিজা স্বপন চৌধুরী।

তিনি আরো বলেন, আমার জেঠুকে (প্রয়াত প্রভাংশু চৌধুরী) বলেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের কাগজপত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সাবমিট করার জন্য। কিন্তু আমার জেঠু (প্রয়াত প্রভাংশু চৌধুরী) প্রতিত্তোরে বলেন, বাবারে আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি কোনো সুযোগ সুবিধা বা ভাতার জন্য যুদ্ধ করি নাই।

উল্লেখ্য যে, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রভাংশু চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফুল্ল চন্দ্র দাসের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্নভাবে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/এসডি-১৩