সিলেটে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর থানাপুলিশ আসামি ধরতে গেলে পুলিশের সামনে অভিযুক্তের পিতার দায়ের কোপে কিশোরীর পিতা খুন হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট দিঘীরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ব্যক্তি নিহতের আপন বড় ভাই এবং ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছেলের বাবা। তিনি দা দিয়ে ভিকটিমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কলিম উল্লাহ (৫৩) ওই গ্রামের মৃত তুতি মিয়ার ছেলে। হামলাকারী ছয়ফুল্লাহ নিহত কলিমউল্লাহর বড় ভাই।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে গোয়াইনঘাট থানায় যায় ভিকটিম ও তার মা। এসময় চাচা ছয়ফুল্লাহর ছেলে জুবেল আহমদের (২১) বিরুদ্ধে ধর্ষণের মৌখিক অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগ পাওয়ার পর জুবেলকে আটক করতে দিঘীরপাড় গ্রামে যায় থানা পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, জুবেল স্থানীয় হাওরে রয়েছেন। পুলিশ হাওরের দিকে জুবেলকে ধরতে যায়। এ সময় অভিযুক্ত জুবেলের বাবা ছয়ফুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের বাবা কলিমউল্লাহকে দা দিয়ে গলায় কোপ দেয়ন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ যখন জুবেলকে গ্রেফতারের জন্য ভিকটিমের বাবা কলিমউল্লাহকে নিয়ে হাওরের দিকে যাচ্ছিলেন ঠিক সে সময়ই পুলিশকে পাশ কাটিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে কলিমউল্লাহকে দা দিয়ে কোপ দেয় ছয়ফুল্লাহ।
স্থানীয়রা জানান, ভিকটিমের চাচাতো ভাই জুবেলের সাথে সাথে দির্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই ঘটনা জানাজানির পর বিয়ের জন্য চাপ দেয় ভিকটিমের পরিবার। তাতে রাজি নন জুবেলের পরিবার। এ ঘটনায় গত ৭ দিন ধরে সালিশ বৈঠকেও কোন সমাধান না হওয়ায় আজ গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ নিয়ে যান ভিকটিম ও তার মা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হামলাকারী ছয়ফুল্লাহ ও নিহত কলিম উল্লাহ আপন দুই ভাই। ঘটনার পর ছয়ফুল্লাহকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৯




