এসএসসির ফলাফলে ভরাডুবির কারণে চলতি বছর শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে অনেক কলেজ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় ও প্রত্যন্ত এলাকার বহু কলেজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থীই পাওয়া যাবে না।

অনেক ভালো কলেজেও আসন শূন্য থাকবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কারণ এবার একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। আর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে একাদশ শ্রেণিতে ফাঁকা থাকবে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন। এদিকে চলতি শিক্ষাবর্ষেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


শিগগির একাদশ শ্রেণির ফাঁকা আসনের তালিকা চূড়ান্ত করে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। তবে ভালো কলেজগুলোয় ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে। কবে নাগাদ ভর্তি শুরু হবে এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে।

সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার এসএসসিতে মোট অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যেও এগিয়ে মেয়েরা। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন, আর ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জনের।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, ৯টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন একাদশে আসন রয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি, আর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে রয়েছে ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯২টি আসন। এবার মাধ্যমিকে ১১টি বোর্ড মিলে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। সে হিসাবেও অন্তত ১৪ লাখের বেশি আসন খালি থেকে যাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বলছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৯টি, আর সবচেয়ে কম আসন রয়েছে সিলেটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৫টি। এ ছাড়া বরিশাল বোর্ডে আসন রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৫টি, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮০৪টি, কুমিল্লা বোর্ডে ২ লাখ ৬২ হাজার ৩২০টি, দিনাজপুর বোর্ডে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২১০টি, যশোর বোর্ডে ২ লাখ ২১ হাজার ২২৯টি, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০৭টি এবং রাজশাহী বোর্ডে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৮২টি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে মানসম্পন্ন ও ভালো কলেজ হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই শতাধিক। এতে আসন আছে ১ লাখের কাছাকাছি। এসব কলেজেই শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহ বেশি থাকবে। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে রাজধানীর দিকে। ঢাকায় মানসম্পন্ন কলেজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০। এগুলো ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির শেষ ধাপেও সারা দেশের ৩৭৬টি কলেজ ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। আর ১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার আগ্রহই দেখাননি। আর দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৪১৩টি কলেজ ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও পাননি। এ ছাড়া ১০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য পছন্দক্রম (চয়েজ) দেননি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর সারা দেশের ৮ হাজার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (কলেজ ও আলিম মাদ্রাসা) একাদশ শ্রেণিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি করানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১৩টিতে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও পাওয়া যায়নি। আবার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ ভর্তির জন্য আগ্রহ দেখাননি। সেখানে কেউ পছন্দক্রম দেননি।

এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন প্রায় ২৫ লাখ। সে ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।

ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে হয়।

পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এবারও ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজসহ কয়েকটি চার্চ পরিচালিত কলেজে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১১