ছবি: সংগৃহিত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। প্রশাসনের দায়সারা ভাব ও নজরদারী না থাকায় লুটেরারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে প্রচার রয়েছে যে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই উপজেলার লিজবিহীন বালু মহাল থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার বালু লুট হচ্ছে।

 


এদিকে লুন্টিত বালু নিয়ে বহনের সময় মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট চালিয়ে শ্রমিকদের জেল জরিমানা করা হয়ে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মোকামবাজার এলাকা থেকে লুন্টিত বালু বিক্রির সময় ৪ জনকে আটক ও ৫ টি নৌকা জব্দ করে জরিমানা করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের জামিলা ছাড়া, হারছড়া, ধামাইছড়া, কালামুহাসহ কয়েকটি বালু মহাল দীর্ঘ ১যুগ থেকে ইজারাবিহীন রয়েছে। এসব বালু মহালের ইজারা মূল্য বর্তমানে কোটি টাকারও বেশি। বিগত সরকারের সময় এসব বালু মহাল থেকে আওয়ামী লীগ- যুবলীগের নেতা-কর্মীরা দেদারছে বালু লুট করেন। সরকার পতনের পর থেকেই সেই বালু মহালের দখল নিয়েছেন বিএনপি-যুবদলের নেতারা। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে ম্যানেজ করে তারাই এখন হয়েউঠেছেন বালু মহালের ভক্ষক।

 

প্রশাসনের দায়সারা ভাব ও নজরদারী না থাকায় দিনে-রাতে সমান তালেই তারা এসব বালু মহালল থেকে বালু লুট করছেন। প্রশাসনের মোবাইল কোর্টে প্রায়ই নৌকা ও ট্রাক শ্রমিকরা ধরা পড়লেও মূল হুতারাই সবসময় থেকে যান পর্দার আড়ালে। শ্রমিকরা ধরা পড়লে সেই নেতারাই জরিমানা পরিশোধ করে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তাদের। ছাড়া পেয়ে আবারো নেমে পড়েন বালু উত্তোলনে।

 

মঙ্গলবার উপজেলায় ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির সময় ৪ জনকে আটক ও ৫টি বালুর নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

 

পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ফারজানা হোসেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করা হয়। আটক কৃতরা হলেন মুন্সিবাজার ইুইনয়নের সুনাটিকি গ্রামের আফতাব আলীর ছেলে ফেরদৌস আলী (৫০), ইদান উল্লার ছেলে সিজিল মিয়া (৪০), সিফাত উল্লার ছেলে রুহেল মিয়া (২৪) ও খয়াজ উল্লার ছেলে সিলি মিয়া (৩৫)। তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জব্দকৃত ৫টি নৌকা পরবর্তীতে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, এতোদিন এসিল্যন্ড ছিলেন না। যার কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো যায়নি। এসিল্যান্ড চলে এসেছেন। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। আমি নিজেও বিভিন্ন বালু মহালে অভিযান চালাবো। ম্যানেজ করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, এধরনের অভিযোগ শুনা যায়, তবে অভিযান চালিয়ে সবাইকেই ধরা হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/সুহেল/ইকে-০৩