ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেট মহানগরীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেদারসে চলছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে বারবার অভিযান পরিচালনা করার পরও বন্ধ হচ্ছে না এই সব অসামাজিক কাজ। সমাজের কিছু সংখ্যক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, নর-নারীরা অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন অহরহ। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেফতারের পাশাপাশি সিলগালা করা হচ্ছে জড়িত হোটেল। তারপরও থেমে নেই অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীরা। এই নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে সিলেটে নতুন দুটি আবাসিক হোটেলসহ মোট ১৪টি হোটেল সিলগালা করেছে প্রশাসন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বন্দরবাজার, সুরমা পয়েন্ট, তালতলা, শেখঘাট, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা, শাহজালাল (রহ.) দরগাহ গেইট, জিন্দাবাজার, সোবহানীঘাট, নাইওরপুল, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও লাউয়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এসব হোটেল ব্যবসার আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ।
সর্বশেষ গত বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কোতোয়ালি থানার রাজার গলি-দরগাহ গেট এলাকার ‘হোটেল নির্জন’ এবং দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী এলাকার ‘তিতাস হোটেলে’ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হোটেল দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এর আগে বিভিন্ন সময় অভিযান দিয়ে আরও ১২টি আবাসিক হোটেল সিলগালা করেছিল পুলিশ। সিলগালাকৃত ওই হোটেলগুলোতেও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ছিল এবং পুলিশের দেওয়া অভিযানে জড়িতরা গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
সিলগালাকৃত ওই হোটেলগুলো হল-গত ২৩ জুন দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নগরীর দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়। অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে কোতোয়ালি থানার তালতলা এলাকার ‘রহমানিয়া বোডিং’ ও ‘ছাদী গেস্ট হাউজ’ সিলগালা করে পুলিশ।
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে বন্দরবাজার এলাকার ‘তালহা রেস্ট হাউজে’ অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে লালবাজার এলাকার ‘এলাহী আবাসিক হোটেল’, ‘হোটেল অতিথি’ ও ‘হোটেল সুফিয়া’য় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। একই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন আম্বরখানা এলাকার ‘নিউ হোটেল লেমন গার্ডেনে’ অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে প্রায় অর্ধশত তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী ও নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আবাসিক হোটেলগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এরও আগে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার ‘সিলেট রেস্ট হাউজ’, তালতলা এলাকার ‘হোটেল বিলাশ’, দক্ষিণ সুরমার ‘গ্রান্ড সাওদা’ ও ‘আল সাদী হোটেলে’ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটক করার পাশাপাশি হোটেলগুলো সিলগালা করা হয়।
একই বছরের নভেম্বরের শুরুতে জিন্দাবাজার এলাকার ‘হোটেল রাজমনীতে’ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে হোটেলটিও সিলগালা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি আম্বরখানা এলাকার ‘হোটেল নূরানী’ ও ‘হোটেল আলীবাবায়’ অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের পরও নগরীর আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সচেতন নাগরিকরা জানান, শুধু অভিযান ও হোটেল সিলগালা করাই যথেষ্ট নয়। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি যারা হোটেল ব্যবস্থাপনার আড়ালে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘মহানগরীতে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িত হোটেলগুলো সিলগালা করা হচ্ছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ আশিক/ এহিয়া-১৫




