আজ ১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, আত্মীয়তার বন্ধন ও প্রয়োজনীয় সংবাদ আদান-প্রদানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনতেন অসংখ্য মানুষ।
 

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারে সেই আবেগঘন চিঠির ব্যবহার এখন অনেকটাই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডাকঘরগুলোতেও।
 


কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রধান ডাকঘরসহ প্রায় ২০টি পোস্ট অফিস ও সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি ডাকঘরের কার্যক্রম বর্তমানে ভাড়া করা দোকানঘর থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

একসময় ডাকঘরের সামনে থাকা লাল রঙের দাঁড় করানো ডাকবাক্স ছিল পরিচিত ও আবেগময় এক দৃশ্য। এখন সেই ডাকবাক্সও অনেক জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আদালত ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও চিঠিপত্র এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা হয়। ফলে আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও কানাইঘাটে সরকারি সেবা প্রদানে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
 

ডাকঘর সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রাহকসেবা আধুনিক ও দ্রুত করতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ চালু করেছে স্পিড পোস্ট (এসডি) ও গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট (জিইপি) সেবা। পাশাপাশি ডাক জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড এবং ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মতো বিভিন্ন সেবাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে।

কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. ফারুক আহমদ তাপাদার জানান, চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি ডাকঘরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া সল্প খরচে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এ ডাকঘর থেকে।

তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবার পাশাপাশি কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে পরিচালিত ডিজিটাল পোস্ট অফিস নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
 

কানাইঘাট ডিজিটাল পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে কম্পিউটারের বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি নির্ধারিত সল্প খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী সরকারি সনদ অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক চিঠি দিবসে কানাইঘাটের ডাকঘরের বর্তমান চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই হাতের লেখা চিঠি কিংবা ডাকঘরের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও ডিজিটাল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ভিড় করছেন ডাকঘরে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মাহবুবুর/এসডি-০১