সিলেট মহানগরীর প্রশস্ত ও ব্যস্ততম সড়কগুলোর মালিক সড়ক ও জনপথ (সওজ)। সংস্কারের অভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় সড়কগুলো থাকে খানাখন্দে ভরা। সড়কগুলো নিয়ে খুব একটা ‘মাথাব্যথা’ নেই সওজের। সব দায় যেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)। বেহাল সড়কের জন্য জনসাধারণের ‘গালমন্দ’ও খেতে হয় সিসিককে। 


জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কগুলোর মালিকানা ও দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয় সওজকে। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া মিলেনি। আগে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে সড়কগুলো সিসিক সংস্কার করলেও গত দুইবছর থেকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না সওজ। ফলে বেহাল সড়ক নিয়ে সিসিক ও সওজের টানাটানিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। 



জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর ভেতরে সওজের ৪৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। বরাদ্দের অভাবে সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছে না সওজ। সড়কগুলোতে খানাখন্দের সৃষ্টি হলে এরজন্য নগরবাসীর তোপের মুখে পড়তে হয় সিসিককে। যে কারণে সওজের কাছ থেকে এনওসি নিয়ে এতোদিন সড়কগুলো নিজেদের খরচে সংস্কার করে আসছিল সিটি করপোরেশন। 


স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় সিসিক সড়কগুলোর মালিকানা হস্তান্তরের জন্য সওজকে চিঠি দেয়। কিন্তু সওজ মালিকানা ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করে। ফলে নগরবাসীর ‘গালমন্দ’ থেকে বাঁচতে সওজের এনওসি নিয়ে সড়কগুলো সংস্কার করে আসছিল সিসিক। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সওজ এনওসি দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর আম্বরখানা-কুমারগাঁও, চৌহাট্টা-কুমারপাড়া-নাইওরপুল, নাইওরপুল-টিলাগড় ও কিনব্রিজ-কদমতলী বাসটার্মিনাল- হুমায়ূন রশিদ চত্বর সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। কিন্তু দুই প্রতিষ্ঠানের ঠেলাঠেলির কারণে কেউই সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এতে দুর্ভোগকে নিত্যসঙ্গী করেই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সবচেয়ে বেশি বেহাল কদমতলী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কটি। সড়কটিতে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন সিলেটে যাতায়াত করা যাত্রীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

    

সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনারের সামনের সড়কটি বেহাল। কিন্তু সওজ ও সিসিকের টানাটানির কারণে সংস্কার হচ্ছে না সড়কটি। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

মহানগরীর ভেতরে সওজের সড়ক সংস্কার নিয়ে গত মাসে সার্কিট হাউসে সিসিক ও সওজ কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ওই বৈঠকে সড়কগুলোর সমস্যা তুলে ধরেন উভয় দপ্তরের কর্মকর্তারা। বৈঠকে সড়কগুলো সংস্কারে আলাদা বরাদ্দ প্রাপ্তি নিশ্চিতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। 


এ ব্যাপারে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, মহানগরীর প্রায় ৪৮ কিলোমিটার সড়ক সওজের রয়েছে। এর মধ্যে কদমতলী টার্মিনালের সামনের সড়কটি বেহাল। শিগগিরই সড়কটি সংস্কার করা হবে। সিটি করপোরেশন সড়কগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সওজের স্থানীয় অফিসে আবেদন করলেও মুলত এটি দুই মন্ত্রণালয়ের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত না আসলে স্থানীয় অফিসের কিছু করার নেই।  


সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলী আকবর জানান, অতীতে সিসিক থেকে কয়েকবার সওজের কাছে সড়কগুলোর মালিকানা ও দায়িত্ব হস্তান্তরের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া মিলেনি। এনওসি নিয়ে দীর্ঘদিন সিসিক সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সওজ এনওসি দিচ্ছে না। আবার বেহাল সড়কগুলো সংস্কারও করছে না। অথচ মানুষ বেহাল সড়কের জন্য সিসিককে দায়ি করে ‘গালমন্দ’ করে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ