ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

সিলেটের জৈন্তাপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে পরপর দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও থানায় এখনও কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

 


জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে এবং পরদিন শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘ঘিলাতৈল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর ৩২ ঘণ্টা পার হলেও কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। তিনি শুনেছেন, দুই পক্ষ সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তা আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এদিকে এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঘিলাতৈল গ্রামে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের প্রায় ২৫ জন সমর্থক আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় এলাকায় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরেরও খবর পাওয়া যায়। বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদের দাবি, সংঘর্ষের সময় প্রায় ১০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে একই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় পথচারীসহ প্রায় ১৮ জন আহত হন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট পাঠানো হয়।

 

পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে অবনতি না ঘটে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটায়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে গ্রেফতারের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু আধিপত্য বিস্তার নয়, মানবপাচার, চোরাচালান ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন ‘নোয়াখালী-সিলেট’ পরিচয়কে সামনে এনে সামাজিক বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা চলছে। পরপর দুই দিনে একই এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ‘দুই দফা সংঘর্ষের পর থেকে ঘিলাতৈল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো পক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৬