কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এত দ্রুত এগোচ্ছে যে, আগামী এক দশকের মধ্যে এটি ‘সব মানুষকে হত্যা করতে পারে’, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক ইভান হুবিঙ্গার। তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, এমন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুবিঙ্গার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি কম। তবে প্রযুক্তিটি খুব শিগগির এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে এআই নিজেই নিজের সক্ষমতা উন্নত করতে পারবে এবং তখন মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।


হুবিঙ্গার বলেছেন, অ্যানথ্রপিক এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে সুপারইন্টেলিজেন্স বা অতিমানবীয় সক্ষমতার এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এখনো কার্যকর সমাধান বা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যানথ্রপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেল যুক্তরাজ্যের এআই সেফটি ইনস্টিটিউটের কাছে দেয়নি। এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এ বিষয়ে বিবিসি অ্যানথ্রপিকের মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিসও সর্বশেষ মডেলটি এআই সেফটি ইনস্টিটিউটের কাছে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, এআই মডেলকে আরও নিরাপদ করতে অ্যানথ্রপিকসহ শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সরকার।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিংয়ের অধ্যাপক নীল লরেন্স বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনটি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই উন্নয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং ওয়াশিংটনের তুলনামূলক বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের কারণে মিত্রদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কমানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালেই ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কয়েক মাসে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও মেটা তাদের এআই টুলের মাধ্যমে পরিচালিত সাইবার হামলার ঘটনা প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোকি এআইয়ের অগ্রগতির বিষয়ে ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের কর্মকর্তা দারিও আমোদেই ও জ্যারেড কাপলানসহ প্রযুক্তি খাতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এআই উন্নয়ন ধীর করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এআই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১,৩০০ কর্মীর স্বাক্ষর করা এক খোলা চিঠিতেও উন্নত এআই উন্নয়নের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৯