বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলেট বিভাগ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তালিকায় বিভাগের সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এগুলোর সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় ২৭০০ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কোনটি আছে আংশিক উৎপাদনে, কোনটির উৎপাদন শূণ্যের কোটায়। আর একটি কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বিকল। উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাসের অভাব ও প্ল্যান্টগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা কমে যাওয়াকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টতা। 


সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় বিবিয়ানা থেকে। বিপিডিবি’র তথ্যমতে, বিবিয়ানা থেকেই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিড লাইনে সরবরাহ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা কেন্দ্র থেকে গড়ে ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি এবং ৪০০ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-৩ কেন্দ্র থেকে ৩৮০ মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ৩৮৩ মেগাওয়াট বিবিয়ানা সাউথ কেন্দ্র থেকেও মিলছে সন্তোষজনক বিদ্যুৎ। 



২০২২ সালের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর থেকে হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের মার্চ থেকে কেন্দ্রটি আংশিক উৎপাদনে ফিরেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ১৪০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি গেল প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ আছে। 


সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১৬০ মেগাওয়াট হলেও এই দুটি কেন্দ্র থেকে গড়ে পাওয়া যাচ্ছে ৮০ মেগাওয়াট। ফেঞ্চুগঞ্জের ১৬৩ মেগাওয়াটের কুশিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। 

সিলেটের ২৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গড়ে ১২০-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। 


এছাড়া ছোট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৭০ মেগাওয়াটের শাহজীবাজার জিটি কেন্দ্র থেকে ২৫-৩০ মেগাওয়াট, ২৫ মেগাওয়াটের শাহজাহান উল্লাহ কেন্দ্র থেকে ৮-১০ মেগাওয়াট, সিলেটের ২০ মেগাওয়াট জিটি থেকে অনিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ মিলছে, ৮৬ মেগাওয়াটের শাহজীবাজার কেন্দ্র থেকে গড়ে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।


এ ব্যাপারে বিপিডিবি সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, বর্তমানে সিলেটে বিদুৎতের খুব একটা সংকট নেই। বিভাগের চার জেলার পিডিবির গ্রাহকদের চাহিদা গড়ে ২৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার ৯০ শতাংশ সরবাহ মিলছে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ