উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আড়াই বছর ধরে পরিষদে তাদের কোনো সভা হচ্ছে না। সরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।
 

বিরোধে জড়িয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউপি সদস্যরা। দীর্ঘসময়ে অনাস্থা কার্যকর না হওয়া এবং লিখিত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ইউপি সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই ক্ষোভে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে গড়বাড়ী বাজারে প্রতিবাদ সভাও করেন ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী।
 


জানা গেছে, দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১২ মেম্বারের মধ্যে রয়েছেন ১০জন। দুজন মেম্বার মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার সঙ্গে মেম্বারদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তিন দফা চেয়ারম্যানের সঙ্গে মেম্বারদের বৈঠক হলেও বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন মেম্বাররা। তোলেন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। কয়েকবার তদন্তও হয়েছে। ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। তবে এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যদের শঙ্কা, তদন্তের নামে সময় পার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে মেয়াদ পার করতে চাচ্ছেন।
 

ইউনিয়নের দরগারবন্দ গ্রামের মোখলেসুর রহমান জানান, তিনি নিজে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারা কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান ছিলেন। চারজনকে বরখাস্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে জনগণের কোনো অভিযোগ নেই। চেয়ারম্যান শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে  সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চেয়ারম্যান- মেম্বারদের দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়নে আড়াই বছর ধরে কোনো উন্নয়নমুলক কাজ হচ্ছে না।
 

দুলালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আফসার উদ্দিন দেওয়ান জানান, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিএনপির কেউ না।

ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমরা ১০ জন মেম্বার অনাস্থা দিয়েছি। তদন্ত হয়েছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
 

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন ফরায়েজি জানান, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে পরিষদের মেম্বাররা অনাস্থা দিয়েছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। এসবের তদন্ত হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তার অপসারণ ও শাস্তি চান তারা।

নরসিংদী জেলা বিএনপির তাঁত শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক মোল্লার ভাষ্য, চেয়ারম্যান শামীম মোল্লা বিএনপির কেউ না। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনগণকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তার অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিচার ও অপসারণ চান তারা।
 

চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক শামীম মোল্লা বলেন, ‘আমি শিবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য। আমার  বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার কালা মিয়া জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন। এতে তাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা না।
 

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিনের ভাষ্য, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বে দুলালপুর ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজ করা যাচ্ছে না। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকেও তদন্ত হয়েছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়াকে ফোন দিলে ধরেননি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২০