মৌলভীবাজারের জুড়ীর কৃতি শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন নয়ন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি (Mississippi State University) থেকে সফলভাবে পিএইচডি (ডক্টরেট ডিগ্রি) সম্পন্ন করেছেন।
 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জীব প্রকৌশল বিভাগ থেকে তিনি এই ডিগ্রি লাভ করেন। নয়ন জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বটুলী গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ৩য়। তার এই গৌরবময় অর্জনে পুরো জুড়ী উপজেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।



নয়নের বাবা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি জামিউল উলূম কামিল মাদরাসার বি.এস.সি শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাধে নয়ন গাছবাড়ি মডার্ণ একাডেমী থেকে মাধ্যমিক এবং গাছবাড়ি আইডিয়াল ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ থেকে ২০১৫-২০১৬ সেশনে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ থেকে ২০২১-২০২২ সেশনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় পাড়ি জমান। তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (অও) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফসল ফলনের তথ্য আরও নির্ভুল করা।
 

গবেষণা সম্পর্কে ড. মিনহাজ উদ্দিন নয়ন বলেন, “ফসল কাটার আধুনিক যন্ত্র জমির কোন জায়গায় কত ফলন হয়েছে সেই তথ্য সংগ্রহ করে। তবে কারিগরি কারণে এসব তথ্যে অনেক সময় ভুল থাকে। আমার গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব ভুল শনাক্ত করা এবং ফলনের সঠিক তথ্যকে জমির নিখুঁত অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করেছি, যাতে কৃষক জমির প্রকৃত ফলন সম্পর্কে শতভাগ সঠিক ধারণা পান।”
 

প্রযুক্তির উপযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, “একই জমির সব জায়গায় সমান ফলন হয় না। কোথায় ফলন কম বা বেশি হচ্ছে, তা সঠিকভাবে জানা গেলে কৃষক সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পারেন। এর ফলে সার, পানি ও অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, যা অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় কমিয়ে উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”

প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে নয়ন জানান, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিতে এর ব্যবহার অনেক বেশি। কৃষিতে যন্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের পদ্ধতি অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এর ব্যবহার বাড়লে নির্ভুল ফলনের তথ্য কৃষকদের আরও কার্যকরভাবে জমি ব্যবস্থাপনা করতে সহায়তা করবে।
 

নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার পরবর্তী পরিকল্পনা হলো পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যোগ দিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করা। এরপর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে কৃষিতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনায় এআই কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আমি দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে চাই। বিশেষ করে, মাঠের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের ফসল উৎপাদন, সার ও পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করাই আমার লক্ষ্য, যাতে গবেষণার ফল সরাসরি কৃষকের বাস্তব প্রয়োজনের কাজে আসে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/মঞ্জুরে/এসডি-০১