মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মামলায় ১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন ছাদিক মিয়া। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে সদর উপজেলার নারাইনপাশা বাজারে চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়া তার বকেয়া পাওনা ১,২৬৩ টাকা আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি সঙ্গীদের নিয়ে এসে দুরুদ মিয়ার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান এবং তাকে গুরুতর জখম করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরদিন ১২ জুন রাতে নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারায় ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন বিজ্ঞ বিচারক। তবে অন্য ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, 'আদালতে মামলার জট কমাতে কম সময়ে সাক্ষীদের উপস্থাপন করে বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ সহজ করছে।'
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, 'প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি হওয়ায় বিচারপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি পাবে।'
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বিচার পাওয়ার কথা জানান নিহত দুরুদ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পরপরই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তার স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুলইসলাম/আশিক-০৬





