ছবি: সংগৃহিত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেতে যাচ্ছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসের বেতন তারা নবম পে স্কেল অনুযায়ী পাবেন। সঙ্গে পাবেন তিন মাসের বকেয়াও।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন এখনই হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও এখনো হতাশায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে আদেশ জারি করবে অর্থ বিভাগ।
অন্যদিকে এটি প্রক্রিয়ার বিষয় বলে জানিয়েছে অর্থবিভাগ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কবে আদেশটি হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এখনো অপেক্ষায় থাকতে হবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল প্রজ্ঞাপন বিলম্বের কারণ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের বেতনপ্রক্রিয়ায় অ্যানালগ পদ্ধতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেতন হিসাব করার প্রক্রিয়া হাতে-কলমে করতে হয়। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হচ্ছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতনকাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইকে-০৬





