ছবি: ফাইল ছবি।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিলেটে বাড়ছে নিরাপত্তা প্রস্তুতি। গত বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে প্রশাসন। পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। দায়িত্বে থাকবেন ৭ শতাধিক পুলিশ সদস্য।


এসএমপির তথ্য অনুযায়ী, চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে—সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



মহানগরে ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ২ শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য।


জানা গেছে, এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আফজাল হোসেন সিলেটভিউকে জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।


তিনি বলেন, ১০৮টি সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেসব ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে, সেগুলো পূজার আগেই সচল করা হবে। পূজামণ্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা যাবে। এ ছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পূজা কমিটির সদস্যরা।

 

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সার্বজনীন ৪৪৮টি এবং পারিবারিক ২৬টি। অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে ১৬৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।


এদিকে, পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজার পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থসহায়তার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২/আশিক-১৩