মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের উসমানগড়ে লন্ডন রিসোর্ট পার্ক ও পার্টি সেন্টারকে ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপথগামী হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ।
 

স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে এসব কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে রিসোর্ট পরিচালনাকারীর কাছ থেকে ওই নেতার আর্থিক সুবিধা নেওয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার কথাও জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই নেতা। তাঁর দাবি, সেখানে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
 


জানা যায়, ২০২৩ সালে কুলাউড়া সড়কসংলগ্ন উসমানগড়ে রিসোর্টটি গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগে এর দুই পরিচালনাকারী গিয়াস মিয়া ও মুহিতকে আটক করে যৌথ বাহিনী। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রিসোর্টের দায়িত্ব নেন মির্জা আহমেদ। তাঁর সময়েও অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ ওঠে। মির্জার দাবি, যুবদল নেতা আব্দুল আহাদ ও ইউপি সদস্য সিরাজ খাঁন তাঁর কাছে আর্থিক সুবিধা চান। এ কারণে দেড় বছরের মাথায় তিনি রিসোর্ট ছেড়ে চলে যান।

মির্জা আহমেদ বলেন, মালিক মোস্তফা লন্ডনীর কাছ থেকে ১৮ বছরের চুক্তিতে রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। ব্যবসা পরিচালনার সময় আব্দুল আহাদ ও সিরাজ খাঁন আর্থিক সুবিধা দাবি করেন বলে অভিযোগ তাঁর। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের কিছুদিন আর্থিক সুবিধা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেননি। ১৮ মাসের মধ্যেই রিসোর্ট ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে আব্দুল আহাদের মাধ্যমেই রিসোর্টটি পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রিসোর্টের আড়ালে অসামাজিক কার্যক্রম চলছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অনেকে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। এ নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ রয়েছে। তবে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
 

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল আহাদ বলেন, আগে সেখানে অপকর্ম হয়েছে। এ কারণে মির্জাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো অসামাজিক কার্যক্রম নেই। সেখানে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুই মাস আগে রিসোর্টটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রিসোর্টটির কার্যক্রম পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/মআস-০২