ছবি: এআই।

সিলেট নগরের উপশহরের বাসিন্দা তাসলিমুর রহমান নৌবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করবেন। যোগদানের জন্য অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে প্রয়োজন ‘চারিত্রিক সনদ’র। অনলাইনে আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনদ অনুমোদন করেননি। শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ঠিকানার জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সনদ নিয়ে যোগদান করেছেন তাসলিমুর।


শুধু তাসলিমুর নন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় চারিত্রিক, জন্ম-মৃত্যু ও উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন কাজের সনদ নিতে গিয়ে সিলেট মহানগরের লোকজনকে এভাবেই হয়রানির শিকার হতে হয়। কাউন্সিলর না থাকায় ছোটখাটো বিষয়েও তাদেরকে ছুটে যেতে হচ্ছে নগরভবনে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হলে তাদের ‘দেখা মেলা ভার’। দেখা মিললেও নানা অজুহাতে সেবা ছাড়াই শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদেরকে। সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা। জনপ্রতিনিধি না থাকায় দুর্ভোগ দেখারও যেন কেউ নেই।


 

তবে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন, কোন নাগরিক কোন সেবা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হলে নগরভবনে আসতে পারেন। নগরভবন থেকে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

 

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সকল জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়। এরপর প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য সরকারি একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। নিজেদের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তাঁদেরকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নাগরিক সেবার কাজ করতে হচ্ছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, কোন কাজে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দফতরে গেলে তাকে পাওয়া যায় না। ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ওই কর্মকর্তা অফিসের বাইরে থাকেন। ওয়ার্ড সচিবরা কাজ করে দেওয়ার নামে দিনের পর দিন ঘুরান।

 


বিশেষ করে জন্ম, মৃত্যু, চারিত্রিক ও উত্তরাধিকার সনদে স্বাক্ষর করতে চান না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ‘ব্যক্তিগতভাবে চিনি না’- এমন অজুহাত দেখিয়ে আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেন তারা। এ ছাড়া এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, সুপেয় পানি ও জলাবদ্ধতাসহ সব ধরণের সেবার জন্য নগরবাসীকে ছুটতে হয় নগরভবনে। কেউ কেউ ছুটে যান সাবেক কাউন্সিলরদের কাছে। নিজেদের ক্ষমতা না থাকলেও ওয়ার্ডবাসীর স্বার্থে তারা ফোনে নগরভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ফোনে সুপারিশ করে থাকেন কাউন্সিলররা।


সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন প্রবাসীরা। অনেক প্রবাসী ৩/৪ সপ্তাহের ছুটি নিয়ে দেশে আসেন জায়গা-জমি বিক্রির জন্য। কিন্তু দেশে আসার পর উত্তরাধিকার ও নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করতে চলে আসে ফেরার সময়। একই জটিলতায় অনেকে এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরিতেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


এ প্রসঙ্গে সিসিকের ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল জানান, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যে তফাৎ রয়েছে। একজন কাউন্সিলর তাঁর ওয়ার্ডের লোকজনকে চেনেন-জানেন। কিন্তু একজন কর্মকর্তার সেই সম্পর্ক নেই। তাই একটি সনদে স্বাক্ষর করতে তাঁরা অনেকবার ভাবেন।


সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাই রাফিন সরকার জানান, অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ত ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ করতে পারেন না। কোন নাগরিক কোন সেবার জন্য প্রয়োজন হলে নগরভবনে আসতে পারেন। নগরভবনে আসলে অবশ্যই তিনি বিধিমোতাবেক সেবা পাবেন।


সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সিটিকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করে পাঁচজন জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেলে জোনাল অফিসে গেলেও নাগরিক সেবা মিলবে। নগরভবন থেকেও নাগরিক সেবা কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ/আশিক-১৪