ছবি: সংগৃহিত

সিলেট মহানগরীর শাহী ঈদগাহ থেকে বালুচর মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজট, গাড়ি ছেড়ে হাঁটতে হাঁটতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা সাধারণ যাত্রীদের। তাদের অধিকাংশেরই গন্তব্য শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠ। সেখানে চলছে সিলেট বাণিজ্য মেলা।

 


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা-টিলাগড় সড়কজুড়ে ছিল তীব্র যানজট। রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেক পথচারী ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে সিগন্যাল দিয়েও যানবাহনে আসন মেলাতে পারেন নি। এমনকি অনেক রিকশা চালককেও এই রাস্তায় চলাচলে অনিহা প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

 

এমনিতেই সিলেটবাসী মেলা পাগল হিসাবে পরিচিত। কোথাও এমন আয়োজনের খবর পেলে তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তার উপর এবার তিন বছর পর সিলেটে শুরু হয়েছে মেলা, তাও আবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা! সঙ্গে যোগ করুন সপ্তাহিক ছুটির বিকেল আর পূজার ছুটি। ভিড়তো হবেই!

 

হয়েছেও তাই। সরজমিনে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে দেখা গেছে শিশু-কিশোর থেকে অনেক বয়স্ক লোকজনও ঘুরছেন, দেখছেন আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করছেন।

 

রান্নাঘরের জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সবধরনের পোশাক-আশাকের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে বড় বড় স্টল বসেছে। কয়েকজন স্টল মালিক জানালেন, প্রায় প্রতিদিন ভিড়ের সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। কথাবার্তায় পুরো আয়োজন নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করলেন।

 

সন্তোষ প্রকাশ করলেন কয়েকজন দর্শনার্থীও। গোলাপগঞ্জ থেকে সপরিবারে মেলায় এসেছেন আব্দুল আউয়াল (৪০)। সঙ্গে স্ত্রী এবং ছেলে ও মেয়ে। জানালেন, ছুটি শেষে আবার কাজের ঝামেলায় আর মেলায় আসার ফুসরত মিলবে না। তাই ‘শুক্রবারর ছুটিটা কামো লাগাই দিলাম’।

 

মেলায় শিশুদের জন্য বেশ ভালো কিছু রাইড রাখা হয়েছে এবং তারা সেগুলো খুব উপভোগও করছে। নাগর দোলা, বাম্পার কার, সুপার চেয়ার ইত্যাদিতে তারা চড়ছে। আর ড্রাগন ট্রেন ও পবনের নৌকায় চড়ে অনেক বয়স্কদেরও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেল। অবশ্য বড়দের জন্য বক্সার, হাতুড়ি পেটানোর ব্যবস্থাও আছে। আছে রিয়েলিটি অব ডেঞ্জারও।

 

এত এত আয়োজনের মধ্যে ভুরিভোজেরও ব্যবস্থা আছে। বেশ কয়েকটি খাবারের স্টলে প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে, যদিও দাম কিছুটা চড়া বলেই মনে হল। চা-পান সুপারির ব্যবস্থাও আছে।

 

এবারের মেলায় ছোটো বড় সব মিলিয়ে স্টল বসেছে ১২৫টি। এরমধ্যে অন্তত ৪০ থেকে ৪২টি স্টল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের। অন্য স্টল দাতারা এসেছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী ও খুলনাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে। আছে কিছু বিদেশী কোম্পানীর স্টলও। সব মিলিয়ে এবারের মেলা বেশ উপভোগ্য- একথা বলাই যায়।

 

‘সৃষ্টির শক্তি, সম্ভাবনার দিশা’ শীর্ষক শ্লোগান নিয়ে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি এবারের মেলার আয়োজক।

 

সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পা সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, তিন বছর পর সিলেটে বড় আয়োজনে বাণিজ্য মেলা হচ্ছে। এখনো তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। ইনশাল্লাহ সবার সহযোগীতায় সফলভাবেই মেলা সম্পন্ন হবে।

 

তিনি সপরিবারে মেলা পরিদর্শনে সর্বস্থরের মানুষকে আনমন্ত্রণ জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর এবারের মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকসহ সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে-০৬