সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে মাজারের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ এনে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
চিরকুটে নির্দিষ্ট ১০ জনের নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সিলেটে নানা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় মাজারের দানবাক্স খোলা হলে চিরকুটটি পাওয়া যায়। চিরকুটে দানবাক্সে সংগৃহীত অর্থ গণনা, হিসাব সংরক্ষণ, ব্যাংকে জমা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থেকে মাজারে দান-অনুদান দেন। এই অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ হিসাবব্যবস্থা, জবাবদিহি ও নিয়মিত নিরীক্ষা প্রয়োজন।
দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবি করে চিরকুটে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— শামুন মাহমুদ খান, নূর ইসলাম পচা, রুহের আহমদ মনি, রং বাবুল, দেওয়ান, তাহের, ধান চুরা আক্তার, সৌরভ সোহেল (বাবুর্চি), বকরি খোকন ও বদ্রনূর সায়েক। তবে শেষোক্ত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় সঠিক কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও চিরকুটে বলা হয়।
চিরকুটে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও আর্থিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের পাশাপাশি দানবাক্সের অর্থ গণনা, ব্যাংকে জমা, খরচের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র পরীক্ষার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
মাজারে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ, গণনার পদ্ধতি, অর্থ জমার স্থান ও ব্যয়ের খাত নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান চিরকুটদাতা।
এদিকে চিরকুটটি কে বা কারা দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে দুদক কিংবা মাজার কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০১





