সিলেট নগরের যানজট কমাতে কয়েকটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। 


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে নগরীর ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। 



বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার থেকে একটি ভাঙাচোরা সড়ক ২৪ ফুট প্রশস্ত করে কংক্রিটের সড়কে উন্নীত করা হবে। এর ফলে ট্রাকগুলোকে নগরের আম্বরখানা এলাকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। বিকল্প পথ ধরে খাদিমপাড়া হয়ে কালাগুল বাজারের সড়ক ব্যবহার করে যানবাহন বাইপাসে পৌঁছাতে পারবে।

 

এ ছাড়া সিলেট বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। লাক্কাতুরা থেকে টেলিভিশন গেট পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই সড়কটি চা-বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সড়কটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সার্কিট হাউসের পাশে পুরোনো জালালাবাদ শিশু পার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কাজ চলছে।

 


বাদাঘাট বাইপাসের কাজ এগোচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাদাঘাট বাইপাসের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজও অগ্রসর হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের যানজট কমানো এবং যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 


তিনি বলেন, শুধু সড়ক ও সেতু নির্মাণের মধ্যেই উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্বস্তি, সন্তুষ্টি এবং ভোগক্ষমতা বাড়ানোই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বড় একটি অংশ এখনো পাকা করা সম্ভব হয়নি। সড়ক উন্নয়নের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

 


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদ শেষে যেন সিলেটের প্রতিটি সড়ক পাকা করার অগ্রগতি নিয়ে জনগণের সামনে জবাবদিহি করা যায়, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য। নগরের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে।

 

 

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ মহাসড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর সামান্য কিছু কাজ পরবর্তী দুই-তিন মাস চলতে পারে। তবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটি মূলত ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান।
 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/আশিক-০৭