সিলেটের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান থেকে প্রবাহিত ননীছড়াকে দখল ও দূষণমুক্তের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর একটি প্রতিনিধি দল সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উত্তর-পূর্ব সীমা দিয়ে প্রবাহিত ননীছড়ার অংশবিশেষ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ছড়াটির দখল ও দূষণ দেখে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষতঃ বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলে ও ছড়ার উপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ছড়াটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। অথচ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ছড়াটিকে রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা পরিবেশ অপরাধিদের কর্মকান্ডে সুফল বয়ে নিয়ে আসছে না।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে আজ ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে একটি প্রতিনিধিদল ছড়াটি পরিদর্শনে গেলে তাদের স্বাগত জানান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি'র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমিরেটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, বোর্ড অব স্ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
এ সময় পরিদর্শন দলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি'র মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি'র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমিরেটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, বোর্ড অব স্ট্রাস্টিজের মেম্বার মুহিতুল বারী রহমান, স্কুল অব ল’র ডিন প্রফেসর শেখ আশরাফুর রহমান, স্কুল অব আর্টস এন্ড সোস্যাল সায়েন্সেস এর ডিন ড. মোস্তাক আহমেদ দীন। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট শাখার জিএম নওশাদ মোস্তফা, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, পরিবেশকর্মী রেজাউল কিবরিয়া লিমন, সোহাগ তাজুল আমিন, নাহিদ পারবেজ বাবু, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার, লিটন চৌধুরী প্রমুখ।
পরিদর্শনকালে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ননীছড়ায় আশপাশের বাসা-বাড়ি থেকে দেদারসে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিদর্শন দলকে জানানো হয়, ছড়ার জায়গা সংকুচিত করা ও স্থাপনা নির্মানের চেষ্টা করছে অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব স্ট্রাস্টিজের মেম্বার মুহিতুল বারী রহমান জানান, ছড়াকে দূষণমুক্ত রাখতে সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে ছড়ার অনেকটুকু অংশে লোহার জালি দেয়া হয়েছে। ছড়ার পাশে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ।
পরিদর্শন শেষে ডা মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের এই প্রাকৃতিক ছড়ার পানি নিম্নাঞ্চলের হাওর-বিল দূষিত করছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আব্দুল করিম কিম বলেন, দখলের কারনে নগরের অনেক ছড়াকে সংকুচিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সে সব দখন উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাই এখানে যারা ইউনিয়ন পরিষদের নিরবতায় উৎসাহি হয়ে ছড়া দখল করছেন, ভবিষ্যতে আপনাদেরকেও উচ্ছেদ করা হবে।
ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি সংবেদনশীল। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ননীছড়াকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতেই নয়, সিলেটের বিভিন্ন ছড়া-খাল-নদী রক্ষায় আমরা পরিবেশকর্মীদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/আশিক-১৪




