নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাসকে ডেকে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, লাইন ভেঙে জোরপূর্বক করোনা ভ্যাকসিন নিতে না দেওয়ায় মাশরাফি আলম মাহীর নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক তাকে মারধর করে আহত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া দুইটায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত প্রণব চন্দ্র দাস অভিযুক্ত মাশরাফি আলম মাহীকে প্রধান ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় মামলা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত হাসপাতাল কর্মচারির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১২ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের করোনার প্রথম ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছিল। দুপুরের দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউপির উত্তর চান্দগ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে মাশরাফি আলম মাহী ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে লাইন ছাড়াই বুথে প্রবেশ করে অপেক্ষমানদের পেছনে ফেলে তাকে টিকা দিতে জোরজবদস্তি শুরু করে। এসময় অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাস তাকে লাইনে যেতে অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাস, টিকা কার্যক্রমে নিয়োজিত সিস্টার ও ব্রাদারদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে হাসপাতালের নিচে চলে যায়। প্রায় আধঘন্টা পর প্রণব চন্দ্র দাস হাসপাতালের নিচে গেলে মাশরাফি আলম মাহী প্রণবকে ডেকে নিয়ে আরো ৭-৮ যুবক মিলে বেধড়ক মারধর করে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রণব দাসকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস শুক্রবার বিকেলে বলেন, জোরপূর্বক টিকা নিতে ব্যর্থ হয়ে কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধভাবে তার হাসপাতালের এক কর্মচারিকে ব্যাপক মারধর করেছে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় আহত অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাস থানায় মামলা করেছেন।
বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন চন্দ্র দেবনাথ শুক্রবার বিকেলে বলেন, হাসপাতাল কর্মচারী প্রণব চন্দ্র দাসকে মারধরের ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/লাভলু




