দাম বাড়বে- এমন খবরে সিলেটে ‘লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)’ বা সিলিন্ডার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালান ডিলার থেকে শুরু করে খুচরো বিক্রেতারাও।
একদিন পর বিক্রি করলেই পুরনো দামে কেনা প্রতি সিলিন্ডারে লাভ হবে বেশি। তাই সিলেটে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ডিলার, রিটেইলার ও খুচরো বিক্রেতাদের মাঝে সিলিন্ডার স্টকের এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে রিটেইলারের অভিযোগের আঙ্গুল বড় ডিলারদের দিকে, আর ডিলারদেরও অভিযোগ- দাম বাড়ার খবরে রিটেইলাররাও মাল স্টক করতে চাচ্ছেন। ফলে নিতে চাচ্ছেন চাহিদের চাইতে বেশি মাল।
এ বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য হচ্ছে- বাজারে এলপিজি’র কোনো সংকট নেই। দাম বাড়ার খবরে ডিলার থেকে শুরু করে রিটেইলার, এমনকি খুচরো বিক্রেতাও কিছু মাল স্টক করতে চান- যাতে দাম বাড়লে দু-পয়সা বেশি লাভ করতে পারেন।
জানা গেছে, সিলেটে ‘লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)’ বিক্রির বড় দুটি ডিলার দক্ষিণ সুরমার বিএইচডি এন্টারপ্রাইজ ও কামাল এন্টারপ্রাইজ। সিলেটের বেশিরভাগ খুচরো বিক্রেতা ও ছোট ডিলারকে সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু অভিযোগ ওঠেছে- হাজার হাজার পিস সিলিন্ডার মওজুদ থাকলেও আজ (সোমবার- ২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এ দুটি প্রতিষ্ঠান কোনো সিলিন্ডার বিক্রি করছে না। দু-একদিনের মধ্যে দাম বাড়বে- এমন খবরের ভিত্তিতে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখে পরে সেগুলো নতুন দামে বিক্রি করবে তারা- এমন অভিযোগ রিটেইলারদের।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার এলপিজি’র কয়েকজন খুচরো বিক্রেতা সিলেটভিউ-কে জানান, বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে- আজ (সোমবার) রাতেই এলপিজি’র দাম বাড়ানো হবে। সে খবরের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুরমার বিএইচডি এন্টারপ্রাইজ ও কামাল এন্টারপ্রাইজ আজ সকাল থেকে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
খুচরো বিক্রেতারা বলছেন- অধিক লাভের লোভে এ দুটি প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দাম বাড়ার পর পুরনো দামে কেনা এলপিজি নতুন দামে বিক্রি করবে। ইতিপূর্বে আরও বেশ কয়েকবার প্রতিষ্ঠান দুটি এরকমই করেছে। তারা বড় ডিলার বলে তাদের কাছে সবাই যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ১১৩০ টাকা। খুচরো বিক্রেতারা সেটি ১২০০ বা আরেকটু বেশি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু আজ রাতে সিলিন্ডার প্রতি আরও ১০০ টাকা দাম বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এলপিজি’র বিভিন্ন কোম্পানির ডিলার ও বিএইচডি এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী হোসেন সিলেটভিউ-কে বলেন, একেবারেই বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। কোম্পানিগুলো আমাদেরকেই মাল কম সরবরাহ করছে। তাই রিটেলাইরদের চাহিদামতো মাল দিতে পারছি না। আজ সকালেও আমাদের গাড়িতে করে দোকানে দোকানে মাল পৌঁছে দিয়েছে। তবে চাহিদামতো দিতে পারিনি এটি ঠিক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ রাতে এলপিজি’র দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরেক বড় ডিলার কামাল এন্টারপ্রাইজের মালিক কামাল আহমদের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে মেঘনা গ্রুপের কোম্পানি ফ্রেশ এলপিজি’র ডিস্ট্রিক সেলস ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন সিলেটভিউ-কে বলেন, আমরা প্রতি মাসের শুরুতেই হিসাব করে নেই- এ মাসে আমাদের কতটুকু মাল লাগবে। সেই হিসেবে বিদেশ থেকে লিকুইট আনা হয়। মাঝে-মধ্যে চাহিদা বাড়লে মালের একটু ঘাটতি পড়ে। তবে তীব্র সংকট কোনো সময়ই তৈরি হয় না।
তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন স্থানীয় ডিলার বা রিটইলাররা। দাম বাড়ার খবরে তারা প্রত্যেকেই মাল স্টক করতে চান, যাতে দাম বাড়লে দু-পয়সা বেশি লাভ করা যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ রাতে নতুন করে এলপিজি’র দাম নির্ধারিত হবে। দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




