সোমবার রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাবনায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকান এবং একটি বাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত: ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাসা ও দোকানটির সবকিছু।

সেই দোকানের মালিকের নাম ইমরান হোসেন। আগুন লাগার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। বিষয়টি সিলেটভিউ-কে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।


জানা যায়, সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টের পার্শ্ববর্তী রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খোলা জ্বালানি তেল ও এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির একটি দোকানে আগুন লাগে। মুহুর্তে দোকানটিতে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি বাসায়। সেই বাসার ৪ বাসিন্দা দ্রুত বের হলে তারা প্রাণে বাঁচেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি টিম দুই ধাপে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ততক্ষণে ওই দোকান এবং এর পিছনের বাসার সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অপরদিকে, যে দোকানে আগুন লাগে তার পাশেই গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিলো। সে ট্রাক পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া পাশেই রয়েছে যমুনা ও পদ্মা কোম্পানির ডিপো। তবে, ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় যমুনা ও পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপো বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

স্থানীয়রা বলছেন- এক সিলিন্ডার থেকে আরেক সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে গিয়ে এই আগুনের সূত্রপাত। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে এর লেলিহান শিখা আকাশছোঁয়ার চেষ্টা করে এবং আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ও কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দক্ষিণ সুরমা স্টেশন এবং তালতলা স্টেশনের ৩টি টিম এসে আগুন নেভানো শুরু করে। পরে আরও ৪টি টিম তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেয়।

ফায়ার সার্ভিসের রিজার্ভ পানি ছাড়াও ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী সুরমা নদী থেকে পাইপ দিয়ে পানি নিয়ে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা চালান কর্মীরা। ৪০ মিনিটের চেষ্টায় সেই ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। পুলিশ ও স্থানীয় জনতা এসময় ব্যাপক সহযোগিতা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার মঙ্গলবার (১ মার্চ) বিকেলে সিলেটভিউ-কে বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কিছু এখনও জানায়নি।

এ বিষয়ে সিলেট ফায়ার সাভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন-এর সিনিয়র স্টেশন অফিসার (সদর) মো. বেলাল হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটভিউ-কে বলেন, আমাদের তদন্ত এখনও চলছে। এখনও আমরা জানতে পারিনি ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম