'ও মা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে...
মরি হায়, হায় রে... ও মা ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে...'
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে দু’টি বাংলা মাসের নাম রয়েছে। একটি ফাল্গুন মাস। আর অপরটি অগ্রহায়ণ মাস। জাতীয় সঙ্গীতে অগ্রহায়ণ মাসের পাশাপাশি ফাল্গুন মাসটিকেও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ফাল্গুন মাস বাংলা ক্যালেন্ডারের ১১ তম মাস। ঋতুরাজ বসন্তের এ মাসে গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি সাজে ভিন্ন রূপে। প্রকৃতির এ ভিন্ন রূপে যোগ দিয়ে প্রকৃতিতে এক অন্যরকম স্পন্দন সৃষ্টি করে গাছে গাছে শোভা ছড়ানো আমের মুকুল। আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে কবিগুরু ফাল্গুন মাসের বর্ণনায় পাগল করা আমের মুকুলের সৌরভের কথাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আমাদের জাতীয় সংগীতের এই লাইনটি যেন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে। এই ফাগুন মাসে বানিয়াচংয়ের প্রায় সবকটি পাড়া-মহল্লায় আমগাছের মুকুলে ছেয়ে গেছে। আমগাছের মুকুলের শোভায় বানিয়াচংয়ের চারদিক এখন মুখরিত। ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা। ফাগুনের আগুন রঙে সেজেছে বানিয়াচংয়ের প্রকৃতি। তার সাথে যোগ দিয়েছে গাছে গাছে আমের মুকুলের সৌরভ। কোথাও কোথাও বাতাসে মুকুলের সুবাসও বইছে। আমপাতার সবুজ বিছানায় মুকুলের সোনালি রেনু যেন ফুলশয্যা সাজিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে ফাগুনকে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে এখন আমের মুকুল শোভা পাচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দুটি/তিনটি করে আম গাছ রয়েছে। আর গাছ গুলোতে সোনালি রঙের আমের মুকুল ছড়িয়ে আছে। বসন্তের মৃদু বাতাসে দুলছে আমের মুকুল আর তাতে দেখা গেছে মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন যাদুর মত টানছে মৌমাছিদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের চাহিদা কিছুটা পূরণ হবে স্থানীয় আমে বলে মনে করছেন অনেকেই।
উপজেলার ১ নং ইউনিয়নের হাসানপুরেরে বাসিন্দা শাহিনুর মিয়া জানান, তার বাড়িতে ৫ টি আমগাছ রয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রচুর মুকুল এসেছে তার গাছে। নিজের পরিবারে আমের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনদেরও আম দিয়ে থাকেন তিনি। তাছাড়া এলাকার ছেলেরা ঢিল মেরেও তার গাছ থেকে আম পেড়ে খান। তাতে তিনি বিরক্তবোধ করেন না, বরং ছেলেদের এই দূরন্তপনা দেখে খুশি হন তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / জসিম / ডি.আর




