গোপালগঞ্জের মো. শামীম রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে পড়ালেখা করতেন। ইউরোপ যাওয়ার নেশায় পড়ালেখা ছাড়েন। অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়ায় বন্দি হওয়ার পর নির্যাতন ও কষ্টের বর্ণনা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ইউরোপে অবৈধ পথে আর কোনো বাংলাদেশি যেন না যান। দরকার হলে দেশে ভিক্ষা করে খান।
তার পরও যাইয়েন না। আমি গত ৯ মাস বন্দি ছিলাম, মাটির নিচে অন্ধকার কবরের মতো একটি জায়গায়। সেখানে কোনো আলো-বাতাস ছিল না। ’
শামীম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দিনে একটা বনরুটির অর্ধেক করে খাবার দিত। এক গ্লাস পরিমাণ পানি দিত। সেগুলোতে নানা পোকা-মাকড় থাকত। বেঁচে থাকার জন্য এসব খেয়েছি। নিজেরা নিজেদের প্রস্রাব পর্যন্ত খেয়েছি। ভয়ে খাবার চাইতে পারতাম না। কারণ খাবার চাইলেই লিবিয়ান ও বাংলাদেশি দালাল মিলে মারত। কারণে-অকারণে তো প্রতিদিনই মারত। ’
শামীম বলেন, ‘থাকার স্থানটাতে বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড় ছিল। সেগুলো ২৪ ঘণ্টা কামড়াত। এগুলোর সংখ্যা এত পরিমাণ, এত বেশি যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমাদের পুরো শরীর পোকা খেয়ে ফেলেছে। পচন ধরে গেছে। ’
আহমেদ নামের একজন বলেন, অবৈধ পথে ইউরোপে যেতে গেলে যে নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হতে হয় এমনটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। দালালরা প্রলোভনে ফেলে আমাদের এই পথে নিয়ে গেছে। আর কেউ যেন এই ভয়ংকর মৃত্যুর পথে না যান। ’
চার থেকে ৯ মাস বন্দিজীবন কাটিয়ে গত বৃহস্পতিবার যে ১১৪ জন ফেরত এসেছেন, তাঁদের সবার অবস্থা একই। সবাই একই জায়গায় বন্দি ছিলেন। সবারই উদ্দেশ্য ছিল লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি যাওয়া। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি বিশেষ বিমানে করে লিবিয়া থেকে তাঁদের ঢাকায় আনে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং বিভিন্ন রোগের উপসর্গ থাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/জিএসি-২২
সূত্র : কালের কণ্ঠ




