সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট এর মহান একুশের আলোকে নাট্য প্রদর্শনীর এগারোতম দিনে থিয়েটার সিলেট এর সফল মঞ্চায়ন হলো ৬ মার্চ রবিবার।সিলেট সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়াম ১৫ দিন ব্যাপী  আয়োজনে দর্শকের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আমিই নজরুল নাটকটি সৈয়দ শামসুল হকের 'নীলদংশন' উপন্যাসের নাট্যরুপ। নাটকটিতে  নজরুল ইসলাম  ভারত ছেড়ে ঢাকায় আসে দেশ ভাগের সময়। বর্ধমানের বিখ্যাত কবি কাজী নজরুলের নামের সাথে মিলিয়ে বাবা রেখেছিলেন তার নাম। আর এই নামই কাল হয়ে আসে তার জীবনে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকবাহিনীর পৈশাচিক গনহত্যার পর ভয়ে অন্যান্য মানুষের সাথে ঢাকা ছাড়ছিলো নজরুল ইসলাম। কিন্তু পথে পাক আর্মীর তল্লাসিতে আগের দিন খবরের কাগজ থেকে কেটে রাখা একটি কাগজের টুকড়ো তার বিপদের কারন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ওই টূকড়োটিতে বাংলাদেশের পতাকার উপর লিখা ছিল 'তোরা সব জয়োধ্বনী কর, ওই নুতনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখির ঝড়' আর নিচে লিখা ছিলো কাজী নহরুল ইসলাম। পাকসেনারা তাকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভেবে বসে। ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। দস্তখত করিয়ে নিতে চায় স্বাধীনতা বিরোধি ঘৃণ্য এক বিবৃতিতে। সৌদাগরী অফিসে সাধারণ চাকুরে সহয সরল নজরুল ভেবে পায় না এমন ভুল কিভাবে সম্ভব। সে কোনো ভাবেই বুঝাতে সমর্থ হনা যে সে সেই বিখ্যাত কবি নয়। শুরু হয় নির্যাতন। সহয সরল সাধারণ নজরুল হয়ে উঠে বিদ্রোহী নজরুল।


নাটক টিতে অভিনয় করেন, তোফাজ্জল ইসলাম শাকিল, বাপ্পী মজুমদার (নাট্যমঞ্চ সিলেট), দীপংকর দাস অনুপম, অনিক মালাকার, কামরুল হক জুয়েল, সাইমা শাহিদ, জান্নাত-উল-নাহার, মাহফুজুর রহমান, হাবিবুর রহমান তালুকদার, জাওয়াতা আফনান রোজা।

নাটকের নাট্যরুপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুল হক জুয়েল। নাটক মঞ্চায়ন শেষে নাট্যদল কে সন্মাননা প্রদান করেন,বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল, নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ।নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত এর পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু।

আজ বারোতম দিনে মঞ্চায়ন হবে নাট্যমঞ্চ সিলেট এর নাটক 'রংগমালা'।নাটকটি রচনা করেছেন নাট্যকার বিদ্যুৎ কর, পূণ নির্দেশনা দিয়েছেন রজত কান্তি গুপ্ত।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রেবি/ শাদিআচৌ-১২