জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের (জেসিপিএসসি) উদ্যোগে ‘শিক্ষকদের কার্যকরী শ্রেণি ব্যবস্থাপনা, ক্লাস পরিচালনা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেসিপিএসসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক বিগ্রেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: শওকত ওসমান, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'জাতীয় জীবনে উপযুক্ত শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উৎকর্ষ আনয়ন শিক্ষকের সুষ্ঠু পেশাগত শিক্ষার উপর নির্ভরশীল। শিক্ষকতা পেশা অন্যান্য পেশা থেকে ভিন্ন। কারণ অন্যান্য পেশায় ঘাটতি থাকলেও তা কাটিয়ে উঠা যায়। কিন্তু শিক্ষকতা পেশায় ঘাটতি থাকলে তা দারুণভাবে শিক্ষার্থীর উপর প্রভাব ফেলে। ফলে জাতি অভাবনীয় ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং তা আর পূরণ করা যায় না। এ ছাড়া শিক্ষার পরিমাণ ও গুণগত মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন এ কথা আজ সর্বজনবিদিত। একজন শিক্ষককে তার নিজের বিষয়ে উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই চলবেনা। সে সঙ্গে পাঠ্য বিষয়সমূহ কিভাবে শিখাতে হবে সে বিষয়ে তাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। তাঁকে শিক্ষাবিষয়ক নিয়ম, প্রক্রিয়া, শিক্ষাতত্ত্ব সম্পর্কিত কর্মশালা, শিক্ষা ও শিশু মনোবিজ্ঞান, শিক্ষাদানের আধুনিক পদ্ধতি ও মূল্যায়ন কৌশল জানতে হবে। প্রয়োজন থাকলেই শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠে না। তার জন্য প্রয়োজন মেধাসম্পন্ন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অগ্রগতির অনুসন্ধানে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষক। প্রশিক্ষণ এক ধরনের শিখন প্রক্রিয়া যা অর্জিত জ্ঞানকে প্রসারিত করে, অনুশীলনের মাধ্যমে পরিপক্বতা আনয়ন করে, দক্ষতাকে শাণিত করে এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে বাস্তবমুখী পরিবর্তন আনয়ন করে ব্যক্তিত্বকে দৃঢ়করণের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানোর বাসনা সচল রাখে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রশিক্ষণ হচ্ছে একজন ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো। অজানাকে জানা আর জানার পরিধিকে আরো বিস্তৃত, নান্দনিক ও ওজস্বী করে তোলাই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি একজন সুদক্ষ সৈনিকও বটে। জীবন রণাঙ্গনে তিনি হবেন অপরাজেয় এবং সফল ব্যক্তিত্ব। আপনারা পরম শ্রদ্ধেয়, সম্মানিত ব্যক্তি ও জাতির পথ-প্রদর্শক । তাই আপনাদের হতে হবে প্রাজ্ঞ, সুচিন্তিত, অভিজ্ঞ, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল মনের আলোকদীপ্ত মানুষ। আপনাদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হলে আমাদের প্রজন্ম আরো সুশিক্ষিত হবে, জ্ঞানবান হবে। তাই জাতিকে উন্নত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করতে হলে প্রথমেই প্রশিক্ষক তথা শিক্ষকদের হতে হবে জ্ঞানবান ও প্রশিক্ষিত। আমি আশা করি আজকের এই সেমিনার থেকে আপনারা অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন। এখন থেকে আরও বেশি জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করবেন এবং নিজেদের অনুশীলনের ধারা অব্যাহত রাখবেন। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা। তাই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করণে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে কর্নেল মোঃ কুদ্দুসুর রহমান বলেন, 'জ্ঞান অর্জন, নতুন জ্ঞান আবিষ্কার ও বিনিময় এবং নতুন কলাকৌশল আয়ত্তে এনে তা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ অতি দ্রুত পৃথিবীর পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এ পরিবর্তনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে শিক্ষক। শিক্ষক একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব যাঁর মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। এই সুষ্ঠু পরিবেশের মাধ্যমেই শিক্ষার্থী জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ পায়। পরিবর্তিত জগতের নতুন জ্ঞান ও কলাকৌশল আয়ত্তে আনার সুযোগ শিক্ষার্থী তখনই পাবে যখন শিক্ষক তার অধীত জ্ঞানকে যথাযথ ও প্রায়োগিক কৌশল আয়ত্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৌঁছে দিবেন।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রশিক্ষণ বা আলোচনা সাধারণত শিক্ষকের বর্তমান দায়িত্ব সুচারুভাবে এবং কর্মসমূহ দক্ষতার সাথে সম্পাদনের পদ্ধতি ও কৌশল শিক্ষা দেয় এবং শিক্ষকের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যোগায়। একজন শিক্ষকের পবিত্র দায়িত্ব হবে তিনি তার শিক্ষকতা পেশায় গুণগত ও পরিমাণগত মানোন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। কেননা পেশাগত দক্ষতা অর্জন ব্যতীত শিক্ষার কাঙ্খিত মান অর্জন করা সম্ভব নয়।'

সেমিনারে সহকারী অধ্যাপক সরকুম মাহবুব এলাহী 'শিক্ষাদানের পদ্ধতি ও সৃজনশীল প্রশ্নের কৌশল'; সিনিয়র প্রভাষক আফরোজা বেগম 'পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়সমূহ'; প্রভাষক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী 'পাঠদান পরিকল্পনা ও বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন'; সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মিল হোসেন 'শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক'; সহকারী শিক্ষক মো: শামীম আল মামুন 'কার্যকরী শ্রেণি ব্যবস্থাপনা ও ক্লাস পরিচালনা' এবং সহকারী শিক্ষক আছমা বেগম 'পাঠ উপকরণ ও উপকরণের ব্যবহার' - এ ৬টি বিষয়ের ওপর মাল্টিমিডিয়া

প্রেজেনটেশনসহ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সেমিনারের সার্বিক সমন্বয় করেন প্রভাষক তাজমীন আজমেরী, সদস্য হিসেবে ছিলেন প্রভাষক মো. আরিফুর রহমান, সহকারী শিক্ষক রবীন আচার্য্য ও সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৫