সিলেটে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদনের সংখ্যা বেশি। সিলেটে গত ৫ বছর ধরে তালাকের হার ক্রমাগত বাড়ছে। আর অভিজাত ও শিক্ষিত পরিবারেই বেশি ঘটছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। এতে ঘর ভাঙার পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সন্তানরা। তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীনতা।
সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেটে সংসার ভাঙার বড় কারণগুলো হচ্ছে- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল, পারস্পরিক বোঝাপড়া না হওয়া, শ্রদ্ধাবোধ উঠে যাওয়া ও পরকীয়া।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন- বিয়ের আগেই অবৈধ সম্পর্ক, বিয়ের রীতিতে ধর্মে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সংযোজন এবং বিয়ে পরবর্তী ধর্মীয় অনুশাসন না মানাও বিয়ে ভাঙার বড় ৩টি কারণ।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০১৮ সালে তালাকের আবেদন পড়েছিলো ২৫৫টি। এর মধ্যে নারীর আবেদন ১৭১টি, পুরুষের ৮৪টি। ২০১৯ সালে আবেদন ছিলো ২৯০টি। এর মধ্যে নারীর আবেদন ১৭৪টি, পুরুষের ১১৬টি। ২০২০ সালে আবেদন ছিলো ২০৭টি। এর মধ্যে নারীর ১২৫টি, পুরুষের আবেদন ৮২টি। ২০২১ সালে তালাকের আবেদন ছিলো ৩২৬টি। এর মধ্যে নারীর আবেদন ১৯৯টি ও পুরুষের আবেদন ১২৭টি। আর চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) সিসিকে তালাকের আবেদন পড়েছে ৪৯টি। এর মধ্যে নারীর আবেদন ৩০টি ও পুরুষের আবেদন ১৯টি।
তালাক আবেদনকারীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। অর্থাৎ নারীরাই সিলেটে সংসার ভাঙতে চান বেশি। বিচ্ছেদ আবেদনকারীদের তালিকায় নতুন দম্পতি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বয়স্করাও।
সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ভেতরে বিবাহ বিচ্ছেদে ইচ্ছুক দম্পতিকে নির্দিষ্ট ফরমে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সিটি করপোরেশনের আইন শাখায় আবেদন করতে হয়। আবেদন জমার পর নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রতি মাসে একবার করে টানা তিন দফা নোটিশ দেয় সিসিক। তালাক দিতে যাওয়া স্বামী-স্ত্রীকে ৩ থেকে ৬ মাসের সময় দেওয়া হয়। এরপর সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষকে নিয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানিতে সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়। তাতেও কাজ না হলে বিচ্ছেদ কার্যকরের আইনি পদক্ষেপ নেয় সিটি কর্তৃপক্ষ।
আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে- বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক, মাদকসেবন করে নির্যাতন, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগহীনতা এবং যৌন অক্ষমতা কারণ হিসেবে আবেদনে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ‘পরকীয়া’-কেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালাক আবেদনকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৭০ শতাংশ।
এ অবস্থায় সমাজ ও ধর্মীয় বিশ্লেষকদের বক্তব্য- স্বামী-স্ত্রীর লাগামহীন জীবনযাপন পরিত্যাগ, একে অপরের মতামতকে মূল্যায়ন করা, পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো এবং সর্বোপরি ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার দিন দিন কমে আসবে এবং দাম্পত্যজীবন সুখে ভরপুর হয়ে উঠবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




