একুশে পদক প্রাপ্ত মরমী সাধক বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজান ধল গ্রামে দুই দিনের লোক উৎসবের শেষ দিন ছিল বুধবার।
বাউল সম্রাটের জীবন দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় এই উৎসব।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই দিনের ১৭ তম লোক উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিল হাজারো ভক্ত। সম্প্রীতির বন্ধন ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর এই আয়োজন করে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম পরিষদ।
ভাটি অঞ্চলের মানুষের সুখ, দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গানে উঠে এসেছে সব অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কারের কথা। জীবনের শেষ সময়ে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম চেয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীতালয়টি পূর্ণাঙ্গ রুপ লাভ করুক। এখান থেকে সুদ্ধ সুরে বাউল গান ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। তবে, এখনো সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে এই লোকউৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
মানুষ যদি হতে চাও, করো মানুষের ভজনা’বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে,আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, আমি কূলহারা কলঙ্কিনী,কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,কোন মেস্তরি নাও বানাইছে, কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু,বসন্ত বাতাসে সইগো,আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু,আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম,এরকম অসংখ্য গানের রচয়িতা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাত ৮ টা ৪০ মিটিনে শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি পরিষদ ও ধল গ্রামবাসীর আয়োজনে বাউল সম্রাটের বাড়ি দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে দুইটি দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ লোক উৎসব।
এরপর রাত ৯ টায় আলোচনা সভায় বাউল পুত্র শাহ নুর জালালের সভাপতিত্বে ও শাহ আবদুল করিম স্মৃতি পরিষদের কোষাধ্যক্ষ আপেল মাহমুদ ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সরকারের যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন- দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল মিয়া, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেন, আলী হোসেন, দিরাই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল, দিরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সোয়েব হাসান চৌধুরী, সদস্য সচিব মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় শাহ আব্দুল করিমের ভক্তদের অংশ গ্রহণে গানের অনুষ্ঠান যা বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করতে সিলেট-ঢাকা থেকে এসেছেন সঙ্গীত শিল্পী। আশিক, কাজী শুভ, পাগল হাসানসহ স্থানীয় বাউল আব্দুর রহমান, রণেশ ঠাকুর, সিরাজ উদ্দিন, ফয়সাল শাহ আব্দুল করিমের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক, মরমী ও সারি গান পরিবেশন করেন।
এদিকে জানা যায়, প্রথম দিকে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করলেও এবার তা করেনি। ধল গ্রামের মানুষ আর করিম ভক্তরা মিলেই লোক উৎসবের আয়োজন করেছিল।
এবিষয়ে আব্দুল করিমের ছেলে শাহ নূর জালাল বলেন, কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় শাহ আব্দুল করিম পরিষদ ও গ্রামবাসীর উদ্যোগেই লোক উৎসব করেছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-০১




