বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সকালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নার্সিং কর্মকর্তারা। পরে হাসপাতালের মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবসের বিশাল কেক কাটা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।



বিএনএ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক।


প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ডা. মো. ময়নুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুঁতোয়গাথা। বঙ্গবন্ধু জন্ম না নিলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হতো না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়ে গেছেন। তিনি যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছেন। যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে ততোদিন এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সশ্রদ্ধভরে স্মরণ করবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিতে তিনি আজন্ম লড়ে গেছেন। তাঁর হাত ধরে এদেশের চিকিৎসার সেবায় যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছিল, এখনো সেগুলোর ধারাবাহিকতা চলছে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির বংশীবাধক। পাকিস্তানের নির্যাতনের যাতাকল থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে তিনি আজীবন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কখনোই লক্ষ্যচ্যূত হননি। তার অসীম ধৈর্য্য ও মুক্তিকামী চেতনার ফসল হিসেবে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার পেয়েছি। তার স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, শোষনমুক্ত, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হলে তার আদর্শ লালন করতে হবে। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল লোভ-লালসার উর্ধ্বে ওঠে মানুষকে ভালোবাসা, দেশকে ভালোবাসা। বাস্তব অর্থে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সততার সাথে আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত রাষ্ট্র গঠন করতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসরীন আখতার বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোষররা স্বাধীন দেশে বেশি দিন বাঁচতে দেয়নি বঙ্গবন্ধুকে। তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা যাবে। কিন্তু তাদের সেই মিশন ব্যর্থ হয়েছে। বাঙালি জাতির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু চিরদিন স্বমহিমায় থাকবেন।


বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন- সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. মো. আবদুল গফ্ফার, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. আবুল কালাম আজাদ, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার), ডা. মাহবুবুল আলম, গাইনী ও অবস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোকসানা আক্তার, আবাসিক সার্জন ডা. রাশেদ আশরাফ, আবাসিক সার্জন (শিশু সার্জারি) ডা. শবনম, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ অঞ্জলী রানী দেব, সেবা তত্ত্বাবধায়ক, মোসাম্মৎ রিনা বেগম, উপ সেবা তত্ত্বাবধায়ক চম্পা ইয়াসমিন ও সকল নার্সিং সুপারভাইজার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনএ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার উপদেষ্টা মো. জসিম উদ্দিন সরকার, মো. গোলাম রাব্বানী, সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সহ সভাপতি রুবি রানী সাহা, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. সুলেমান আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চন্দ্র দাস, কোষাধ্যক্ষ নিলুফা ইয়াসমিন, সহ কোষাধ্যক্ষ রেবা রানী পাল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সমীর চন্দ্র দাস, নার্সিং কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, তাইবুনা আক্তার, সুমন চন্দ্র দেব, মো. আবদুল খালিক, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. নাজির আলম, আব্দুল খালিক, মো. কিবরিয়া খোকন, সিক্তা রানী দে, মোসা. কনক লতা, প্রতীমা রানী পাল, খাদিজা আক্তার, আছমা আক্তার খানম, তৃষ্ণা তেরেজা ডি’ কস্তা, এম এন এ চৌধুরী, এনায়েত আল আমিন, আওলাদ হোসেন মাছুম, তৈয়বুর রহমান, ইমরান আহমদ তফাদার, জান্নাতুল আফরোজা, মো. তৈয়বুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, তনয় সাহা, হালিম আহমদ, রাহুল আহমদ, শাহাদাত হোসেন, লোকমান হোসেন, মো. আমির উদ্দিন।

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন  উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত)  সেলিনা আক্তার খাতুন, বিএনএ’র সভাপতি মাসুদ আহমদ খান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, হাবিবুল বাশার সুমন নার্সিং কর্মকর্তা রুমি রানী দাস, সাথী বিশ্বাস, হোসনে আরা বেগম, কল্যানী দত্ত, সুহেল আহমদ, সুমন আহমেদ, অনিমা রানী রেলি, শিরিন আক্তার।

সিলেট নার্সিং কলেজের স্টুডেন্ট'স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, আবু তাহের, রমা রানী পাল, শান্তা রানী দেব প্রমুখ।

সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের ৩য় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবুল খয়ের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন, পিএটু পরিচালক মো. রুহুল আমিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল মালেক খান, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল সহ হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ প্রেবি/ শাদিআচৌ-০৭