বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন ‘সিলেটে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হাইকমিশন জানায়, শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এ বিশেষ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এ স্মারকগ্রন্থে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সিলেটে ঐতিহাসিক সফরের ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য রয়েছ।
ড. গওহর রিজভী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের পর ভূ-রাজনৈতিকভাবে বিশ্বে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবু একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের জন্য তার আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও ৫০ বছর আগের মতোই যথার্থ ও প্রয়োজনীয়।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তার ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় সিলেটসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় বার বার ভ্রমণ করেছেন। এ স্মারকগ্রন্থে ১৯৪৭ সালে সিলেটের ঐতিহাসিক গণভোট থেকে শুরু করে ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সিলেটে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সফরের অনেক ঐতিহাসিক ছবি ও তথ্য রয়েছে, যা থেকে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা অনেক কিছু জানতে পারবেন।
এ নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট এবং একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ বক্তব্য রাখেন।
লন্ডন বারা অব হ্যাভেরিংয়ের মেয়র জন মাইলড বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রশংসা করে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতা ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এতে লন্ডন বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ওপর এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয় এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশুরা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
এর আগে হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের জন্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের শান্তি ও অব্যাহত অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে




