আরিফুল হক চৌধুরীর জন্যই যেন আটকে ছিল সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রিয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতি পদ থেকে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরিফের এই সিদ্ধান্তের পর জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল সেটিও নিরসন হতে চলছে। ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনে অনিয়মের যে অভিযোগে স্থগিত হওয়া কাউন্সিল ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুরনো তালিকা দিয়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাউন্সিল। দলের একাংশের নেতাকর্মীদের দাবি আরিফুল হক চৌধুরীকে সভাপতি পদে নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখতেই ২১ মার্চের পূর্বনিধারিত কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল গত ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কাউন্সিলের শেষের দিকে এসে সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্রচারণায় নামেন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিটি উপজেলা ঘুরে তিনি কাউন্সিলরদের সাথে মতবিনিময় করেন। এতে তার পক্ষে বেশ সমর্থনও তৈরি হয়। এই অবস্থায় হঠাৎ করে প্রতিটি ইউনিটের শীর্ষ ৫ জনের পরিবর্তে ১০১ সদস্যের পুরো কমিটিকে ভোটার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে ১৮ ইউনিটের ৯০ জন ভোটারের স্থলে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮১৮ জনে। কিন্তু এরপরও দলের আরিফ বিরোধী বলয়ের মধ্যে কাটেনি আতঙ্ক। শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের আগের দিন বিভিন্ন উপজেলার কমিটি গঠন ও ভোটার তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে কাউন্সিলর স্থগিত করা হয়। ওইদিনই কেন্দ্রিয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের যাচাই-বাছাই (তদন্ত) কমিটি গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, কাউন্সিল স্থগিতের পর দলীয় হাইকমান্ড থেকে আরিফুল হক চৌধুরীকে সভাপতি পদ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়া হয়। গত সোমবার কেন্দ্রের চাপে আরিফ মনোনয়ন প্রত্যাহারের ব্যাপারে সম্মত হলে আগামী ২৯-৩১ মার্চের মধ্যে জেলার সম্মেলন ও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত চ‚ড়ান্ত করা হয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আরিফুল হক চৌধুরী। ওই সম্মেলনে তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সময় হতে ছাত্রদল দিয়ে শুরু করে এখন তিনি বিএনপির রাজনীতি করছেন। সারাদেশে যখন বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল গঠনে কাজ করছে, তখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণকারী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন কর্মী হিসেবে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক সপ্তাহের প্রচারণায় জেলার আওতাধীন ১৮টি ইউনিটে তিনি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করতে সক্ষম হন। কিন্তু দলের হাইকমান্ড মনে করছেন একজন মেয়র হিসেবে সিলেটের উন্নয়নের জন্য তিনি যেভাবে পরিশ্রম করে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছেন তাতে জেলা বিএনপির সভাপতির পদে তার নির্বাচন না করাই শ্রেয়। আগামীতে দলের স্বার্থে তাকে আরো বড় কোন দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেয়া হয়। তাই দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ মতো তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।’
দলীয় সূত্র আরও জানায়, আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ভোটার তালিকা ও কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ ওঠেছিল সেগুলো আর সেভাবে আমলেই নেয়া হচ্ছে না। পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যাচাই-বাছাই (তদন্ত) কমিটির প্রধান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জানান, পূর্বের ভোটার তালিকা দিয়েই কাউন্সিল সম্পন্নের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কাউন্সিল সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোন অনিয়ম পেলে তা কেন্দ্রকে অবগত করা হবে বলে জানান তিনি। তবে কোন অনিয়ম ধরা পড়লে ভোটার তালিকা সংশোধন বা কাউন্সিল পেছানো হবে কি-না এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্পষ্ট কোন উত্তর দেননি মিলন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




