ছবি : আহমেদ শাহিন

সুরমাকে বলা হয় সিলেট নগরীর লাইফ লাইন। সিলেট নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই নদী হারিয়েছে তার আদি জৌলুস। দখল, দূষণ আর নাব্যতা হারানোর ফলে একসময়ের প্রমত্তা সুরমা শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হয় সরু নালায়। নদীর বিভিন্ন অংশে জেগে ওঠে বিশাল বিশাল চর। সেই চর এলাকায় নদী পার হওয়া যায় পায়ে হেঁটে। এমন চিত্র এবারেও। প্রতিবার শুষ্ক মৌসুমে সুরমার নিরব কান্না চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন।

জানা যায়, বড় বড় জাহাজের সাইরেনের শব্দে একসময় ঘুম ভাঙতো সিলেট নগরবাসীর। সুরমার বুকে ঢেউ তুলতো বড় বড় জাহাজ, কার্গো আর মহাজনী নৌকা। স্রোতস্বীনী সুরমায় ঢেউ উঠতো উতাল-পাতাল। সুরমাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই অঞ্চলের অনেক হাট-বাজার ব্যবসাকেন্দ্র। অথচ সুরমা এখন পার করছে দুর্দিন। মৃতপ্রায় সুরমার অশ্রুজল গড়ায় নদী নামক নালা দিয়ে।


সুরমার দু’পাড় জুড়ে একসময় ছিল সারি সারি অবৈধ স্থাপনা। নদী দখল করেও অনেকে তৈরি করেছিলেন দোকানপাট। ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানে অবশ্য দৃশ্য কিছুটা পাল্টেছে। কিন্তু এখনো থেমে নেই দখল। দখলের সাথে যুক্ত হয়েছে দূষণ। স্থানে স্থানে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। সেই আর্বজনা গড়িয়ে পড়ে সুরমায়। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকার ছড়া ও খাল দিয়ে বর্জ্য এসে পড়ছে সুরমায়। ফলে দিন দিন আরও দূষিত হয়ে পড়ছে সুরমা।

সুরমা দখল-দূষণ রোধে সিটি করপোরেশন মাঝে-মধ্যে অভিযান চালায়। তবে এটা মোটেই যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তবে এ ক্ষেত্রে
জনসচেতনতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নগরভবন কর্তৃপক্ষ। তা না হলে সুরমা রক্ষা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য সিটি করপোরেশনের।

বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বহুকাল ধরে খনন না হওয়ায় ফুলে ফেঁপে ওঠেছে সুরমার তলদেশ। ভরাট হতে হতে সুরমা হারিয়েছে নাব্যতা। স্থানে স্থানে জেগে ওঠেছে চর। সেই চরে কেউ করছেন সবজি চাষ, আবার কোথাও চর হয়ে ওঠেছে শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠে। নদী নাব্যতা হারানোর ফলে বর্ষায় সুরমায় সংযুক্ত ছড়া-খাল দিয়ে সহজে পানি নিষ্কাশন হয় না নগরীর। তাই সুরমায় পানি বাড়লে ছড়া-খাল দিয়ে উল্টো নদীর পানি ঢুকে নদীতীরবর্তী নগরীর এলাকাগুলোতে।

খনন ছাড়া সুরমা বাঁচানো সম্ভব নয়- এটা স্বীকার করেন সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরাও। তবে নদী খননের এখতিয়ার নেই তাদের। এজন্য উদ্যোগ নিতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটিকিরপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, সুরমা নদীকে বাঁচাতে এখনই নিতে হবে খননের উদ্যোগ। দখল-দূষণ বন্ধ ও খননের উদ্যোগ না নিলে এক সময় হয়তো অস্তিত্ব হারাবে সিলেটের লাইফ লাইনখ্যাত সুরমা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম