যথাযথ মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ছিল ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। আজ শনিবার দিনভর এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

আজ সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ডেপুটি রেজিস্ট্রার লোকমান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ সময় ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহির কান্তি চৌধুরী, উপপরিচালক (জনসংযোগ) সুমনা আজিজ, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্নিগ্ধা দাস প্রমুখ। বন্ধুসভা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি শাখাও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।


পরে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমান লাইব্রেরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তাহের বিল্লাল খলিফার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন, মুখ্য আলোচক ছিলেন কোষাধ্যক্ষ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক। আলোচনায় অংশ নেন রেজিস্ট্রার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল হক চৌধুরী, আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন শেখ আশরাফুর রহমান প্রমুখ।

এসব কর্মসূচিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন।

সভায় ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছরে অনেক কিছু মীমাংসিত হলেও অমীমাংসিত রয়েছে অনেক কিছুই। বাহাত্তরের সংবিধানের দুটি মূলনীতি সমাজতন্ত্র ও ধর্মীয় নিরপেক্ষতাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার জন্য কখনোই ক্ষমা চায়নি। এদেশের কিছু মানুষ এখনও মন থেকে এই দেশকে মেনে নিতে পারেনি। আমরা জাতির পিতাকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারিনি। একসময় তাঁর নাম নিষিদ্ধ হয়েছিল, তাঁর স্মৃতিকে ধ্বংস করতে নানা কুৎসা রটনা করা হয়েছিল। তবে এখন আমরা শেকড়ে ফিরছি। অনৈক্যের বিশাল মরুভূমিতে আমাদেরকে ঐক্যের মরুদ্যান খুঁজতে হবে।’

অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ এখন সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, বিদ্যুৎ খাত সবক্ষেত্রে বিস্ময়কর সাফল্য লাভ করেছে।’

অধ্যাপক তাহের বিল্লাল খলিফা বলেন, ‘আমরা দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। সমস্ত নেতিবাচক ভাবনা ছেড়ে আমাদেরকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে হবে।’

এদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমইউ কালচারাল ক্লাব তিনদিনব্যাপী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। সে আয়োজনের বিজয়ীদের মধ্যে আজ শনিবার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে