সিলেটে জঙ্গিদের ছোড়া বোমা বিস্ফোরণে নিহত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের কথা মনে আছে? তখন তিনি র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। বোমা বিস্ফোরণে তিনি আহত এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কেমন আছে তার পরিবার ও স্ত্রী-সন্তানেরা? র্যাবই বা কী করেছে আজাদ ও তার পরিবারের জন্য?
জানা গেছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদের মৃত্যুর পর বাহিনীতে তাকে স্মরণীয় করে রাখতে র্যাবের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার পরিবারকে সহযোগিতার জন্য র্যাব সব সময়ই সচেষ্ট থেকেছে, এবং পরিবারও এ জন্য কৃতজ্ঞ। তবে সেসব ততটা দৃশ্যমান ছিল না সাধারণ্যে। এবার সগৌরবে দৃশ্যমান হচ্ছে শহীদ আজাদের জন্য র্যাবের উদ্যোগগুলো।
উত্তরার র্যাব সদরদপ্তরে তার নামে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল মিলনায়তন- 'শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হল'। নবনির্মিত 'র্যাব হ্যারিটেজ মিউজিয়ামের' একটি কর্নারে তুলে ধরা হয়েছে আজাদকে। এর বাইরেও সদরদপ্তরের দ্বিতীয় তলায় শহীদ এই র্যাব কর্মকর্তার ছবি সংবলিত কর্মজীবনের বিভিন্ন অবদানের তথ্য শোভা পাচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি বছর তার মৃত্যুবার্ষিকী ও বিশেষ দিনগুলোতে র্যাবের পক্ষ থেকে তাকে স্মরণ এবং পরিবারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।
শুধু আজাদ নন, র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে নিহত অন্য শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। আভিযানিক কর্মকাণ্ডের সময় মৃত্যুবরণকারী ২৯ র্যাব সদস্যের স্মরণে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) 'র্যাব মেমোরিয়াল ডে' পালন করা হয়েছে। এর আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হয়নি।
যেভাবে আজাদের মৃত্যু
২০১৭ সালের ২৫ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান অপারেশন টুইলাইটে অংশ নেন আজাদ। এ সময় জঙ্গি আস্তানার বাইরে অবস্থানকালে বোমা হামলায় আহত হন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়ার পরদিন তাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মার্চ মারা যান তিনি।
মেধাবী ও চৌকস অফিসার হিসেবে পরিচিত আজাদ ৩৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে ১৯৯৬ সালের ৭ জুন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন পান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ষষ্ঠ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অ্যাডজুটেন্ট অ্যান্ড কোয়ার্টার মাস্টারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর, প্রশাসনিক কার্যালয়, প্রথম প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড ও ১৯তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন আজাদ।
এলিট ফোর্স র্যাবে থাকাকালে আজাদ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন।
মৃত্যুর আগে লে. কর্নেল আজাদ দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বড় ছেলে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করছে। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। একমাত্র মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে প্রাথমিকে পড়াশোনা করছে।
সৌজন্যে: ঢাকাটাইমস
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি
সূত্র : ঢাকাটাইমস




