অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন-সার্ভিসিং ট্রেনিং সেন্টার, সিলেট) রাখী রানী দাস বলেছেন, নারী সমাজের অর্ধাঙ্গিনী। আমাদের দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী রয়েছে। এই নারী সমাজকে বাদ দিয়ে কখনো দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি আশা করা যায় না। সেজন্য সর্বক্ষেত্রে নারীর পদচারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশে আশানুরূপভাবে নারীদের অগ্রগতি দৃশ্যমান। যেহেতু আমি পুলিশ প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু পুলিশ প্রশাসনে নারীর অগ্রগতির চমৎকার একটি উদাহরণ দিতে পারি।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সালে প্রথম ৮ জন নারীকে পুলিশ প্রশাসনে সম্পৃক্ত করেছেন। আজকে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৪ হাজারে। তাঁর হাত ধরেই নারীরা পুলিশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দেখানো পথেই নারীদের অধিকার আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন থেকে নারীরা বিভিন্ন আইনী সহযোগিতা পাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য ও অভিযোগ শোনার জন্য বিভিন্ন সেল গঠন করা হয়েছে। নারীদের অধিকার রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। শুধু পুলিশ প্রশাসনে নয় প্রতিটি সেক্টরে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়া নারীদেরকেই অব্যাহত রাখতে হবে। তবে নারীদেরকেও তাদের চিন্তা চেতনায়, মন মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। পুরুষরা যেমন নারীদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে তেমনি নারীদেরকেও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। তাহলেই নারী-পুরুষের সমতায় সুন্দর একটি সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আর বক্তব্য দীর্ঘায়িত না করে আয়োজক সহ উপস্থিত সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ সিলেট মেট্রোপলিটন ল'কলেজের হলরুমে সেন্টার ফর লিগ্যাল এইড অব বাংলাদেশ (CLAB) কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ২০২২ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেন্টার ফর লিগ্যাল এইড অব বাংলাদেশ (CLAB) এর চেয়ারম্যান ও মেট্রোপলিটন ল'কলেজের উপাধ্যক্ষ ড.এম শহীদুল ইসলাম এডভোকেট এর সভাপতিত্বে ও CLAB এর মুখ্য সচিব এডভোকেট মোঃ মামুন হোসেনের পরিচালনায় সম্মাননা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিবৃন্দ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুভূতি ব্যক্ত করেন মারিয়া চৌধুরী (বিশিষ্ট ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব), কানিজ হাজেরা সেলিনা (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ), মোছাঃ রিনা বেগম (সেবা তত্ত্বাবধায়ক)।
তাছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক, লেখক ও কলামিস্ট অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি, কলামিস্ট, কবি ও লেখক মনসুর আহমদ রুম্মান, মেট্রোপলিটন ল'কলেজের প্রভাষক সৈয়দ জাকারিয়া বকস ইমরান, নাট্যকার ও শিক্ষনবীশ আইনজীবী কবির খান, কাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুনা সুলতানা, শিক্ষানবিশ আইনজীবী রুহেনা বেগম, রুনা সুলতানা, জেসমিন আক্তার।
বাংলাদেশ থেকে এ বছর যারা 'নারী পদক-২০২২' পেয়েছেন -মারিয়া চৌধুরী (ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব), চন্দ্রা দেবী (নৃত্য শিল্পী), কানিজ হাজেরা সেলিনা (শিক্ষিকা), মোছাঃ রিনা বেগম (নার্সিং)। ভারত থেকে এই পদক যারা পেয়েছেন -মীরা দেব (নৃত্য শিল্পী ) শিলচর, কাজল ঘোষ (সঙ্গীত শিল্পী)মুম্বাই, মিতালি রায় সেন গুপ্ত (সঙ্গীত শিল্পী) ত্রিপুরা ও অমৃতা রায় চৌধুরী (চিত্র শিল্পী) কলকাতা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন হারুন রশীদ ও গীতা পাঠ করেন জোছনা বৈষ্ণব।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন- শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রনদ্বীপ চৌধুরী লিংকন, প্রভাষক রিয়াদ হাসান জালাল, সামন্ত ধর, নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মামুন আহমদ, নিতিশ রঞ্জন দাস অপু, নসু ভৌমিক, নয়ন রায়, ফজলে রাব্বি রাশেদ, ইবনে সানি, রায়হান রনি, আহমেদ ফিদা হোসেন, আহমেদ ওয়াফিক হোসেন প্রমুখ।
ভারত থেকে অনলাইন লাইভে যুক্ত ছিলেন সংবর্ধিত অতিথিবৃন্দ সহ অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৬




