তাহিরপুর সীসান্তে আবার শাহ আরেফিনের আস্তানায় ওরশকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষের সমন্ময়ে ফকিরদের বাৎসরিক ওরশ জমে উঠেছে।

৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ আরেফীন (র)’র তিনদিন ব্যাপি ওরশ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হয়েছে। শেষ হবে শুক্রবার (০১ এপ্রিল) সকালে। মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর বন্ধ ছিল এই ওরশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুন মানুষ হয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ ওরশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলার লাখ লাখ নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতার সমাগম ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাগল ফকির, ভক্ত, সাধকসহ স্থানীয়রা এসেছেন। ওরশস্থলের আস্তানায় ইবাদতখানা, অতিথি ভবন, কাফেলাঘরে পাগল ফকিরা মোমবাতি, আগরবাতি জালিয়ে বসে হালকা জিকির করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিল্পীরা মুর্শিদী, ভাটিয়ালী, ভান্ডারী, বাউল, হাসন, করিমের গান গেয়ে ওরশ ও মেলাস্থল মাতিয়ে রেখেছেন। ওরশ প্রাঙ্গনে দোকানীরা বিভিন্ন রকমের খেলনা নিয়ে বসে রয়েছেন। দোকান থেকে বিভিন্ন পন্য ক্রয় করছেন মেলায় আসায় লোকজন।

অপরদিকে ভক্তরা মনের ভাসনা পূরনের জন্য হাস, মোরগ, গরু, ছাগল নগদ টাকা পয়সা স্বর্ণ মানত হিসেবে দান করছেন।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ওরশ কমিটির উপদেষ্টা নিজাম উদ্দিন বলেন, এই ওরশের সূচনালগ্ন থেকে আমার মরহুম চাচা জালাল উদ্দীন দেখাশোনা করতেন। গত বছর তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর থেকে আমার পরিবারসহ এলাকাবাসী স্বেচ্চাশ্রমে ওরশ আস্তানা দেখবাল করছেন। আমার চাচা বেঁচে থাকলে এতো মানুষের সমাগম দেখে খুবই খুশি হতেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, ওরশ আস্তানায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে মেলা প্রাঙ্গনে অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ নজরদারী, মেডিকেলটিম এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে দিবারাত্রী যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃংখলাবাহিনীর টহলদল জোরদার রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গনে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএআর/এসডি-০৭