আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দেশের প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহিদ সোলেমান হলে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মামুন উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইছরাইল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আ. জলিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সাইফুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা পবিত্র কুমার মজুমদার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। কারণ তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

সাহিত্য সংসদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

সাহিত্য সংসদের মাসিক আল ইসলাহ সম্পাদক সেলিম আউয়াল ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপির সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন।

আলোচনায় অংশ নেন কেমুসাস’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মানিক, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট্ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, সহসভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কার্যকরী পরিষদ সদস্য জগলু চৌধুরী, বেলাল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ তাহের, ইছমত হানিফা চৌধুরী, জীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাইফুল হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, বাঙ্গালির অহংকার ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামমুখর নয়টি মাস। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করলেও জঙ্গীবাদ-মৌলবাদের আস্ফালন আজো পুরোপুরি থেমে যায়নি। তাই রক্তের ঋণ এখনো শোধ হয়নি। স্বাধীনতার পুরোপুরি স্বাদ পেতে হলে দেশকে, দেশের পতাকাকে যারা ভালোবাসেন দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে তাদের মধ্যে কোন ধরণের দ্বিধা-দ্ব›েদ্বর অবকাশ নেই। দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে আমাদেরকে একশতে একশ পেতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী প্রজন্মকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রয়াস চালিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মান করার অর্থ হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনাকে উজ্জীবিত ও জাগ্রত করা এবং এটা সম্ভব হলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য ভাষা আন্দোলনে সাহিত্য সংসদের গৌরবময় ঐতিহ্যের উল্লেখ করে বলেন, বীরত্ব প্রকাশের জন্যে নয়, বাস্তবতার আলোকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের জন্যেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এদেশে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ যাতে শান্তির সাথে বসবাস করতে পারে আমাদেরকে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী বলেন, সুজলা সুফলা সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদেরকে কলম-শক্তির যথার্থ ব্যবহার করে নৈতিকতার উন্মেষ ঘটাতে হবে, অসত্য তথ্য প্রচারে বিরত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জামান মাহবুব, এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক, রিপন আহমদ ফরিদী, মোয়াজ আফসার, আবদুল বাতিন ফয়সল, তাসলিমা খানম বীথি প্রমুখ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটক/প্রেবি/এসডি-০৮