স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বিদ্যুৎ, পানি, ডাক্তার ও জনবল সংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। আদিযুগের মতো মোমের আলোয় চলছে রাতের চিকিৎ]সা। পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার বহুল আলোচিত প্রাচীনতম লক্ষীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আজ শুধু কালের সাক্ষী হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে উপজেলা ও জেলা সদরসহ বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা গ্রহণে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ লোকজনদের। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। কিন্তু ওই হাসপাতালটিতে নেই বিদ্যুতের সংযোগ। অথচ ২০১৮ সালে লক্ষীপুর ইউনিয়নকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত বলে ঘোষণা করা হয়। এমবিবিএস ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (ভিজিটর) পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দিয়েই চলছে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমানাপ্রাচীর না থাকায় কুকুর, বিড়াল ও গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ হাসপাতাল আঙিনায়। মাত্র কয়েক গজ দূরেই পল্লীবিদ্যুতের লাইন। অথচ সেখানে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। মাথাবিহীন টিউবওয়েলটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, পাকিস্তান আমলে সিলেট জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ছিল ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। স্বাধীনতার আগেও এখানে চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে একমাত্র একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম। রোগী দেখা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ সবকিছু একাই তদারকি করেন তিনি। তবে সরকারি অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে গেলে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
চিকিৎসা নিতে আসা জিরারগাঁও গ্রামের সখিনা বিবি জানান, ‘অসহ্য গরমে চিকিৎসা নিতে এলে সাথে আসা সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ, ডাক্তার কিছুই নাই, আমাদের এসব দুর্দশা কেউ দেখেনা।’
লক্ষীপুর গ্রামের মদরিস আলী বলেন, ‘হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা-অযত্নে পড়ে আছে, কারো নজর নেই। এভাবে এটি চালু রাখার কোনো অর্থই বুঝিনা।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক চৌধুরী মামুন বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ, চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় রাতে এখানে বখাটেদের আড্ডা বসে। নৈশ প্রহরী না থাকায় হাসপাতালের টিউবওয়েলের মাথা চুরিসহ অনেক জানালা ভাঙচুর হয়েছে । স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করব।’
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘০১৬ সাল থেকে আমি এই হাসপাতালে আছি। দৈনিক ৪০-৫০ জন রোগী আসেন। জনবল সংকটে আমাকে একাই সবকিছু করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাতে রোগীদের মোমবাতির আলোয় সেবা দিতে হয়।’
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দোয়ারাবাজার সাব জোনাল অফিসের এজিএম এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘দুয়েকদিনের মধ্যে ওই হাসপাতালে লোক পাঠিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি মূলত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দিয়েই চলছে। সরকার ডাক্তার নিয়োগ দিলেও পরে তাদেরকে ধরে রাখা যায়নি। লক্ষীপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংস্কার কাজ ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করেছি। খুব শিগগির তাঁরা কাজ ধরবে। বাকি সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডিটকম/পিডি




