সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ বার বার ধ্বসে পড়ছে। বালুমাটি দিয়ে দায়সারাভাবে এ বাঁধগুলো তৈরি করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা কষ্টার্জিত হাওরের ফসল বাঁচাতে এসব দুর্বল বাঁধ রক্ষায় লড়ে যাচ্ছেন।
গেল এক সপ্তাহে (৪-১০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত নলুয়া হাওরের কমপক্ষে ১০টি বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে নলুয়া হাওরের চার নম্বর প্রকল্পের হামহামি বাঁধে ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় লোকজন বাঁধ রক্ষায় এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় ওই হাওরের ৫ নম্বর প্রকল্পের ভুরাখালি নামকস্থানে মেরামত করা বাঁধ ফের ধ্বসে পড়লে হাওরের ২ শতাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে রাত দিন কাজ করে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ও দায়সারা কাজ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি ও পানির চাপে বারবার বাঁধটি ভেঙে পড়ছে।
২০১৭ সালে এ বাঁধ ভেঙে নলুয়া হাওরের ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে নলুয়া হাওরের ৬ ও ৭ নম্বর প্রকল্পেও ধ্বস দেখা দিয়েছে।
নলুয়া হাওরপারের কৃষক নেতা স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার কাজ খুবই নিম্নমানের হওয়াতে এসব দুর্বল বাঁধ বৃষ্টিতে ও সামান্য পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে। ৫ নম্বর প্রকল্পে বারবার ধ্বসে পড়ছে। আমরা স্থানীয় কৃষকদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছি।’
৫ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি পাউবোর নির্দেশনা অনুয়ায়ি বাঁধের কাজ করেছেন। এ প্রকল্পে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তিনি সাত লাখ টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ২৮টি প্রকল্পের ১৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করা হলেও বরাদ্দকৃত অর্থ মোটা অংক লুটপাটের অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও লুটেরাদের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করেছেন।
এদিকে গত কয়েকদিনে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জগন্নাথপুরের কমপক্ষে ২০টি বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে । এসব বাঁধের মধ্যে ১০টি বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। একের পর এক বাঁধ ধ্বসে পড়ার ঘটনায় ফসলহানির আশংকা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসি ( প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করা হয় প্রায় এক মাস পর। ফলে হাওরে বিলম্বে বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধের কাজ সমাপ্ত হয়নি। দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় এবং তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় অনেক বাঁধে ত্রুটি ও দুর্বল কাজ হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। অন্যদিকে পুরো টাকার কাজ না করে মোটা অংকের লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দায়সারা ভাব, দায়িত্বহীনতা এবং প্রকল্পের কমিটির সঙ্গে আর্থিক যোগসাজশে বাঁধের কাজ নিম্নমানের হওয়াতে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত হাওরের ফসলরক্ষা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলেও আমরা আন্দোলনে নামব।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নীতিমালা অনুয়ায়ী বাঁধের কাজ হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, হাওরের ফসলরক্ষায় আমরা মাঠে কাজ করছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সুনু/পিডি




