হত্যা, চুরি, ডাকাতি, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় জনঅসন্তোষে পর প্রত্যাহার করা হয়েছে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন বলছে এটি নিয়মিত বদলি।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে ওসি সাইফুল ইসলাম থানার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ওসি (তদন্ত) ইকতার মিয়ার কাছে। নতুন ওসি যোগদান না করা পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত কয়েক মাস ধরে বাহুবলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়। একইসঙ্গে মাদক ব্যবসা, জুয়া ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ড নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি উপজেলার মিরপুর বিশ্বরোড এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কর্মসূচি থেকে ওসি সাইফুল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনের ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
জানা যায়, গত ৭ জুলাই বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারের একটি ভিডিও বক্তব্য প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাহুবলের অপরাধ পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ও অভিযোগের বিষয়গুলো তখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
স্থানীয় পর্যায়ে ওসি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রকাশ্যে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলেও জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশাসনের নজরে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, ‘এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি।’ তবে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বদলির পর নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাহুবলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমন, মামলার কার্যকর তদন্ত এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠনে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৩




