বরিস জনসন প্রথম প্রধানমন্ত্রী যাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধ করার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের পার্টিগেইটে; যা তাঁর, নিজের মুখ দিয়ে ঘোষিত, কভিড লকডাউন আইন ভাঙার কারণে ফৌজদারী অপরাধ।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সংসদে এবং সংসদের বাইরেও নিয়ম, আইন ভাঙার কথা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বারবার অস্বীকার করেছেন; বলেছেন, যা করা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই এবং অসত্য কথার বলার “খ্যাতি” পেয়েছেন বেশ আগেই!
নিজে আইনের ঘোষনা দিয়ে, আইন অমান্যের অভিযোগের উত্তরের আইন ‘না জানার’ হাস্যকর কথা বলেছিলেন! স্টুডেন্টলাইফ থেকেই তো তিনি (বরিস জনসন) আইন অমান্য করার উস্তাদ! এই নোটিস প্রাপ্তিতে কি অজুহাত খাড়া করেন দেখা বিষয়।
তাঁরা তিনজন সহ আরো ত্রিশ জনের বিরুদ্ধ জরিমানার নোটিস ইস্যু করা হয়েছে, আইন অমান্য করে বিশটিরও বেশী গেদারিং হওয়ার সত্যতা পেয়েছেন মেট্রোপলিটান পুলিশের তদন্ত টীম!
পদত্যাগের চাপের সম্মুখীন হওয়া (নিজদলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমপি এবং বিরোধী দলের) বরিস জনসনকে কিছুটা স্বস্তি এনে- দিয়েছিলো ইউক্রেইন সংকট! ইউক্রেইন নিয়ে তিনি বেশ লম্পঝম্প দিচ্ছেন!
এখন, আইন ভাঙার ফৌজদারী অপরাধের সত্যতায় পদত্যাগের চাপ আরো বাড়বে। তাঁর নিজ দলীয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য তাঁকে সরানোর জন্য দলীয় ফোরামে নোটিস দিয়েছিলেন আগেই, সেটিও হয়তো গতি পাবে।
এদিকে, খবর বেরিয়েছে, মিলিওনার ফাইনান্স মিনিষ্টার ঋষি সুনাকের মিলিওনার স্ত্রী ইনকাম ট্যাক্স না দেওয়ার জন্য আইনের ফাঁক ফোকড় ব্যবহার করেছেন দীর্ঘদিন, যার পরিমান ১২ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশী!
অথচ এই মিলিওনার অর্থমন্ত্রী গৃহস্থালি ব্যবহারে গ্যাস বিদু্যতের অসহনীয় দাম বাড়ার কারণে নিম্ম আয়ের মানুষের পরিবারকে এককালীন ৫০০ পাউন্ড অনুদান দেওয়ার নিজ দপ্তরের সুপারিশকৃত প্রস্তাব উপেক্ষা করেছেন! আগামী অক্টোবরের ২০০ পাউন্ড জ্বালানি বিল থেকে কমানো হবে এই মর্মে ঘোষনা দিয়েছেন, যা, আবার বছরে ৪০পাউন্ড করে পরিশোধ করতে হবে, এদিকে অক্টোবরে আবারো গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়বে হাউসহোল্ড প্রতি বার্ষিক ৬৪০পাউন্ড গড়ে ১লা এপ্রিল থেকে বেড়েছ ৬৯৩ পাউন্ড!
এর আগেও এই মিলিওনার অর্থমন্ত্রী, জনগণের পক্ষের নানা দাতব্য সংস্থার চাপ, আবেদন, বিরোধীদলের কথা অমানবিকভাবে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় legacy Benefits সাপ্তাহিক ২০ পাউন্ডকে আপ-হোল্ড রাখেননি!
পুঁজিবাদী এই মিলিওনাররা রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে মিলিয়ন মিলিয়ন ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন, কর্মজীবী জনতাকে দুর্দশায় রেখে!
অর্থমন্ত্রীর মন্ত্রীত্বও ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, স্ত্রীর ট্যাক্স নিয়ে; (বরিস জনসনের নানাবিধ কর্মকান্ড তিনি ঋষি সুনাক মনে মনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েসে ছিলেন, যদিও মুখে না বলেছেন) মন্ত্রীত্ব থেকে নিজেই পদত্যাগ করতে হবে হয়তো, হয়তো ধুর্ত বরিসই তাঁকে বাদ দিয়ে দিবেন!
বরিস এবং ঋষি, দুজনই এখন অধিকতর চাপে পড়বেন, এই পার্টিগেইট জরিমানা নিয়ে।
লেখক : সাবেক ছাত্র নেতা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী
সিলেটভিউ২৪ডিটকম / ডি.আর




