জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ (জেসিপিএসসি) তে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে 'ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. কুদ্দুসুর রহমান, পিএসসি।
প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা আনিকার সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ১২শ শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈয়দ মাহফুজ হোসেন ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মো. আতাউর রহমান। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক সুমি রাণী চৌধুরী ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন, “ইতিহাসের পাতায় যে ক'টি কিংবদন্তী ও কালজয়ী দিবস বাঙালি জনজীবনে এসেছে, তার মধ্যে আজকের দিনটি অতীব সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও সুদুরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেওয়াটা ছিল অত্যন্ত জরুরী। তাই স্বাভাবিকভাবে মুজিবনগর সরকার গঠন করার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম হয়। এই সরকারের কার্যক্রম পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। মুজিবনগর সরকারের তৎপরতার কারণেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বল্প সময়ের মধ্যে সাফল্য লাভ করে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “মুজিবনগর শুধু ঐতিহাসিক স্থানই নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং রাষ্ট্র গঠনের ভূমিও। তোমাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হলে মুজিবনগর সরকার এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে আরও ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। যে ত্যাগ, সাহস ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জনের পথে নিয়ে যায় মুজিবনগর সরকার, সেই গৌরবের ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত ওই সময়ের নেতাদের জীবন থেকে তোমাদের শিক্ষা নিতে হবে। তোমাদেরকে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক ও দেশপ্রমিক হতে হবে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবাইকে হতে হবে সুদক্ষ কারিগর ও সুনিপুণ যোদ্ধা।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন উপাধ্যক্ষ মো: আবদুল হান্নান এবং অনুষ্ঠানের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৭




