১১ দলীয় ঐক্য সিলেট মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পুর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু আজো জুলাই শহীদদের পরিবারের কান্না থামেনি, এখনও শত শত আহত জুলাই যোদ্ধারা ব্যাথায় কাৎড়াচ্ছেন। সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ দুরে থাক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা গলাটিপে হত্যা করেছে ও জুলাইকে ভুলতে বসেছে। তারা পবিত্র সংসদে বসে তারা গণভোটের রায়কে বাতিল ও সংস্কারকে উপেক্ষার মাধ্যমে জুলাই শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছে। কিন্তু আমরা জুলাইকে ভুলে যেতে দিবোনা। জুলাই শহীদ ও আহতদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবেনা। সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে ১১ দল সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিলং থেকে এসে মন্ত্রী হয়েছেন তাই তিনি জুলাই শহীদ ও আহতদের ত্যাগকে অনুভব করতে পারছেন না। সংসদে বসে স্বগৌরবে বলেন নির্বাচনের জন্য আমরা সংস্কার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলাম। যা জাতির সাথে প্রতারণা। সরকারের শিক্ষামন্ত্রী বন্যার মতো দুর্যোগে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের পোল্ট্রী মুরগির সাথে তুলনা করেছেন। এর মাধ্যমে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করে যাচ্ছে। জুলাই শহীদ পরিবারগুলোকে শান্তনা দেয়ার ভাষা আমাদের নেই। তবে জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে আমরা পিছপা হবোনা। আমরা জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিবোনা।


তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ আসর নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদের পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের নিয়ে অনুষ্ঠিত র‌্যালীপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত র‌্যালিটি নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। র‌্যালীতে জুলাই শহীদের পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যে ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত র‌্যালীপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, লেবার পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি ওমর ফারুক প্রমূখ।

উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি সিলেট জেলা সভাপতি এডভোকেট জুনেদ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হুছাইন, এলডিপির সিলেট জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বাংলাদেশ ডেভলাপমেন্ট পার্টির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, এনসিপির সিলেট জেলা সদস্য সচিব কামরুল হাসান আরিফ ও জাগপার সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন প্রমূখ।

র‌্যালীপূর্ব সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ এবং গণরায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে পারবেনা। জুলাইকে ভুলে গেলে তাদের পরিনতিও খারাপ হবে। এদেশে আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেয়া হবেনা। ১১ দলীয় ঐক্য জুলাই শহীদের পরিবার ও আহতদের পাশে রয়েছে। এছাড়া সমাবেশে বক্তাগণ জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে আগামী ২৫ জুলাই সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফলের আহ্বান জানান।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৪