ঈদের পছন্দের জামা কিনতে আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষই অনেক টাকা ব্যয় করেন। অনেকের কাছে হাজার সতেরোশ টাকা কিছুই না। কিন্তু এই সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে এই টাকাই স্বপ্নপুরণে অবলম্বন। আর যদি সেই টাকা ঈদের কেটাকাটা করতে এসে মার্কেটের ভীড়ের মধ্যে চুরি যায়- তখন সেই মানুষটির মনের অবস্থা কেমন সেটি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধির বিষয়।

এমনই একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের একটি মার্কেটে।


জানা যায়, ছোট্ট শিশুকে সাথে নিয়ে এক মা এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। এসে সন্তানদের জন্য সাধ্যের মধ্যে পোশাক পছন্দ করেন। দাম দরাদরি পর ৯শ টাকায় সন্তানদের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে পাড়া ওই মহিলা খুশি মনে সাথে থাকা ব্যাগে টাকা নিতে হাত দেন। কিন্তু তখন দেখেন ব্যাগে নেই টাকা। কোলে থাকা শিশুটিকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে ভাল করে ব্যাগ দেখেন, কিন্তু ব্যাগ তো খালি! অসহায় অবস্থায় আশপাশে খোঁজতে থাকেন। কোথাও মিলেনি সেই টাকা। ব্যাগের চেইন খোলা দেখে দোকানি বুঝতে পারেন তার টাকা চুরি গেছে। কারণ অতিতে এমন অনেকটা ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় মহিলা নামে রশিদ লিখে জামাগুলো আলাদা করেন রাখেন ওই ব্যবসায়ী।

উপস্থিত কয়েকজন ক্রেতা মহিলার হতভম্ব অবস্থা দেখে নাম পরিচয় জানতে চাইলে তিনি শুধু বাড়ির ঠিকানা কানলী এলাকায় বলে জানান তিনি। এসময় মহিলার অসহায়ত্ব দেখে অনেকেই আফসোস করেন এবং মার্কেটে চোরদের উৎপাত বন্ধ করতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

কেউ কেউ অতিতের ঘটনা টেনে বলেন, পুলিশের চোর ধরে সোপর্দ করার মাস না যেতেই একই চোর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো মার্কেটে কিংবা বিভিন্ন শপিং মলে চুরি করে।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা এরকম অসহায়ত্ব বরণ করতে হচ্ছে নিম্ন থেকে মধ্য আয়ের মানুষদের। ঈদের নতুন জামা কেনা স্বপ্নগুলো অনেক পরিবারের ধুলিসাৎ হচ্ছে মার্কেটে ওৎপেতে থাকা ছদ্মবেশি চোরদের কারণে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিল্লোল রায় বলেন, চুরির এমন ঘটনা তার জানা নেই। বাজারে পুলিশ মোতায়ন আছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এটিআর/এসডি-০৩