রমজান শেষ হতে চলেছে। আর মাত্র তিন বা চার দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। শেষ মুহূর্তে তাই জমে উঠেছে এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ের ঈদের বাজার। বৈশাখের প্রখর রোদ আর তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। মূলত ১৫ রমজানের পর থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে দোকানগুলোতে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বানিয়াচংয়ের বড়বাজার, গ্যানিংগঞ্জ বাজার, আদর্শবাজার, ও ৫/৬ নং বাজারের কাপড়র দোকান থেকে শুরু করে জুতা এবং কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোতে পোশাক ও কসমেটিকসহ দেশি-বিদেশি সবধরণের জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা দলবেঁধে এ দোকান থেকে ও দোকানে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পুরুষদের চেয়ে নারীদের ক্রেতার সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কাপড়ের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে দেশি- বিদেশি সুতি শাড়ি, টাঙ্গাইল, জর্জেটসহ বিভিন্ন ধরণের শাড়ি, থান কাপড়,শার্ট-প্যান্ট, ওড়না ইত্যাদি। তাছাড়া জুতা, কসমেটিকস ও গহনাসহ সবধরণের জিনিসপত্রের দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে রাতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ইফতারের পর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্রেতারা জানান, থ্রিপিস,পাঞ্জাবি এবং মহিলা ও শিশু-কিশোরদের জামা কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। এবছর গরম বেশি হওয়ায় সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি বলেও জানান বিক্রেতারা। গত দুই বছর করোনার প্রভাবে ব্যবসায় মন্দা থাকলেও করোনার বিধিনিষেধ না থাকায় এবছর সেই মন্দা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। তবে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদে নতুন কাপড়ের চাহিদা পূরন করতে পরিবারের সবাই মিলে পছন্দের কাপড়,শাড়ি, থ্রিপিচ ও পাঞ্জাবি কিনতে দোকানে ভীড় করছেন তারা।
কাপড়ের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি স্বীকার করে একটি কাপড়ের দোকানের স্বত্তাধিকারী আহসান কবির জানান, এবছর কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাপড় ক্রয় করছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিক্রি।
কাপড় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, ক্রেতাদের ভালো সারা পাচ্ছি। আমাদের দোকানে মহিলা ক্রেতা বেশি।
কোন ধরণের কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দোকানে লেডিস এবং সূতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফ্যাশনের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এগুলোতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। দামদর করে পছন্দের কাপড় কিনছেন তারা। ফ্যাশনের দোকানগুলোতে পাঞ্জাবী, জিন্সপ্যান্ট, টি-শার্ট এবং শার্টের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পিছিয়ে নেই জুতা এবং কসমেটিকস ব্যবসায়ীরাও। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেনে জুতা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা। জুতা এবং কসমেটিকসের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেইউ/এসডি-১০




