সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ঐতিহ্য বাহী নলজুর নদী খননের নামে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। গতবারের ন্যায় এবারও নদীটির খননকাজ সটিক ভাবে না করে দায়সারাভাবে সপ্তাহ দিন নদীর মাঝখান কুড়ে নদীটিকে ড্রেনে রুপান্তর করা হয়েছে।  

২শ থেকে ৩শ ফুট প্রস্ত নদীটি কে বর্তমানে ২০ থেকে২৫ ফুট প্রস্হের খাল বা ড্রেনে পরিণত করায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ যেন নদী খননের নামে তুঘলকি কারবার চলছে। 


গত বছর ১ম পর্যায়ে ৫ কিলোমিটার নদী খননের নামে লুটপাট হলেও জবাবদিহিতা না থাকায় কোন প্রতিকার হয়নি। এবারও একিই অবস্থা চলছে। 

নলজুর নদী কে নলজুর খাল দেখিয়ে নদী খননের প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর অসত্বিত বিপন্ন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় ও লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে ও এপ্রিলের প্রথম প্রায় সপ্তাহ দিন দায়সারাভাবে কাজ করে আবারও খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  নেশন টেক লিমিটেড সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন কাজ শুরু করে। কাজ চলাকালে অপরিকল্পিত নদী খনন ও খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ১৩ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন চলে যায়। এসময় বিল তুলে নেয় ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২য় পর্যায়ে চলতি বছরের ৫ মার্চ থেকে আবারও কাজ শুরু করে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দে ১৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩৩ ফুট প্রস্তে খনন কাজ ও মাটি সরানোর কথা।  

শুরুতে কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নাগরিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম। 

এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ থেকে বৃষ্টির অজুহাতে কাজ বন্ধ রয়েছে।

নলজুর নদীর পাড়ে অবস্থিত জগন্নাথপুর বাজারের ব্যাবসায়ী আলী আহমদ বলেন, নলজুর নদী দিয়ে এক সময় লঞ্চ, ষ্টিমার সহ বড় বড় নৌযান চলাচল করতো। নলজুর নদী কে নলজুর খাল দেখিয়ে খনন প্রকল্প গ্রহণ করে নদীর অসিত্বত বিপন্ন করা হয়েছে। নদীটি এখন খালে পরিণত হয়ে নৌচলাচল বিঘ্নিত করছে। 

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আখতার হোসেন বলেন, বিশাল দৈর্ঘ্যের নদীটি কে খালে পরিনত করে নৌ চলাচলপথ বন্ধের পায়তারা করা হচ্ছে। নদী খননের নামে লুটপাট মেনে নেওয়া যায়না। এ ব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। 

পরিবেশ কর্মী আব্দুল কাদির বলেন, হেমন্তে কাজ না করে বর্ষার প্রাক্কালে নদী খননের নামে দায়সারাভাবে মাটি ফেলে সরকারী টাকা লুটেরাদের পকেটে চলে যাচ্ছে। এ গুলো দেখার কি কেউ নেই? পাউবোর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে নলজুর নদী কে নলজুর খাল বানিয়ে লুটপাটে মেতে উঠেছে। আমরা এবিষয়ে  সরকারের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি  কামনা করছি।

বেলা সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহেদা আক্তার বলেন, নলজুর নদীর দুপাড়ে বহু অবৈধ দখলদার রয়েছে তাদের উচ্ছেদের জন্য আদালতে মামলা রয়েছে। দখলদারকে রেখে নদীকে খাল বানিয়ে খনন করে আরো দখলের  সুযোগ করে দেওয়া খুবই হতাশাজনক। 

জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, সেটেলমেন্টের নতুন নকশা অনুযায়ী নলজুর নদী ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট প্রস্ত রয়েছে। খনন হচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩৫  ফুট। আমরা নতুন নকশা অনুযায়ী সটিক ভাবে নদী খননের দাবি জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন,পাউবোর ভুল সিদ্ধান্তে নলজুর নদী কে খাল বানিয়ে প্রকল্প গ্রহণে নদীর অসিত্বত বিপন্ন হচ্ছে। 

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করতে বলেছি। এলাকাবাসীর অভিযোগ আমি উধর্ত্বন কর্তৃপক্ষ কে জানাব। বৃষ্টির কারণে কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা মঙ্গলবার বলেন , বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলে নদী ভরাট হওয়ায় নদীর খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, নদীর প্রস্হের শ্রেণি অক্ষুন্ন রেখে সটিক ভাবে ড্রেজিং করে কাজ করতে আরো বড় বাজেট প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করার জন্য উধর্ত্বন কর্তৃপক্ষে জানিয়েছি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসএইচএস/এসডি-১১