ছবি: আহমেদ শাহীন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতিকন্যা জাফলং। সারা বছরই এই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে চোখে পড়ার মতো। গেল দুই বছর করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে প্রশাসনের বিধিনিষেধ থাকায় ঈদের ছুটিতে জাফলংয়ে পা পড়েনি পর্যটকদের।
তবে এবারের ঈদ উপলক্ষ জাফলংয়ে অন্যরকম। লাখো পর্যটকে মুখর প্রকৃতিকন্যা জাফলং। যেন পা রাখার জায়গা নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে জড়ো হয়েছেন এই সৌন্দর্য উপভোগে।
সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে সুন্দরতম পিয়াইন নদ, মেঘালয় পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে আসা স্বচ্ছ জলের ধারা দেখা মেলে এখানে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে সারা দেশ থেকে জাফলংয়ে আসেন পর্যটকেরা। দুই বছর করোনাকালের বিরতি শেষে এবার বাধ ভেঙেছে পর্যটকদের। এ যেন জনসমুদ্র।
বুধবার (৪ মে) থেকে জাফলং এলাকা পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠে। স্থানীয়দের ধারণার চেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন এবার। আগামী শনিবার (৭ মে) পর্যন্ত পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকবে, এরকম ধারণা পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
জাফলংয়ের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা অতি সহজে মুগ্ধ করে যে কাউকে। বিশেষ করে ঈদ–পরবর্তী সময়ে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে এসব পর্যটনকেন্দ্র। এবারের ধারণাতীত পর্যটক সামলাতে বেগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
ঈদের এই উপলক্ষে জাফলংয়ের বিভিন্ন বিপণিবিতান, ট্যুরিস্ট গাইড, খাবার হোটেল, আলোচিত্রী, পরিবহন ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। পর্যটকদের বাধভাঙ্গা আগমনে বেশ আনন্দিত পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। গেল দুই বছর করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা বেশ সচেষ্ট।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। কোন পর্যটক যাতে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির স্বীকার না হন সেজন্য প্রশাসন বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে টহল দল বৃদ্ধিসহ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যটনকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক করতে লাল নিশানা কিংবা নির্দেশনামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিডি/এসডি-২৮




