সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ইকবালের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইকবাল কোন ধরণের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাদের দাবি- ইকবালকে হত্যা করা হয়েছে। 

 


গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের সুমা নদীর শাখা নদী লাউরানজানি ব্রিজের পাশ থেকে ইকবাল হোসেন (৩৫)-এর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে দিরাই থানা পুলিশ তার পর থেকেই নিহত ইকবালের পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে তার মৃত্যু রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। 

 

এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, নিহত ইকবালের লাশ পাওয়ার দুই-তিন দিন আগ থেকেই লাউরানজানি ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে ভাটিপাড়া সড়কে একটা মোটরসাইকেল স্টেন করে রাখা ছিল বলে তারা জানান। 


নিহতের স্বজন জানান, মোটরসাইকেলটি কেউ নিতে বা সরাতে আসেনি। যদি মোটরসাইকেলটি ইকবালের হয় তাহলে তার লাশ এত দূর যায় কি করে। আর যদি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হত তাহলে মোটরসাইকেল এর স্পটে থাকতো ইকবালের লাশ। আশেপাশের কোথাও পরে থাকত বলে মনে করেন তারা।


এদিকে নিহত মোটরসাইকেলচালক ইকবাল হোসেন (৩৫) কে খুন করা হয়েছে এমন  সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত সেই ব্যক্তি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে মইন উদ্দিন ওরফে ভাণ্ডারী (৩৫)। আটক ভাণ্ডারী মোটরসাইকেলচালক ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। তারা আরও জানান এই ভাণ্ডারীর সঙ্গেই ইকবাল মাঝে মাঝে দুই-তিন দিন বাড়ির বাহিরে থাকতো।


রবিবার নিহত ইকবালের পৌর সদরের দাউদপুর গ্রামের বাসায় তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত  ইকবালের রিয়াদ (১২), ইসানূর (৮) নামে দুই ছেলে ও নীলিমা (৬) নামে এক মেয়ে রয়েছে। 


নিহত ইকবাল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, ঈদের দিন দুপুর থেকে তার মোবাইলে একনাগাড়ে ফোন আসছিল। জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন পাথারিয়া বাজার থেকে বন্ধুরা বেড়াতে যেতে ফোন দিচ্ছে। আমার স্বামী সেদিন ৩টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে যান। তারপর থেকে কোন খোঁজ নেই। 


থানায় জিডি না করার বিষয়ে জেসমিন বলেন, তিনি প্রায়ই ১ দিন ২দিন এমন করে বাইরে থাকেন। এছাড়া তাঁর দেবররা খোঁজাখুঁজি করে ছিলেন বলে জানান তিনি।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল আলম জানান, মোটরসাইকেলচালক ইকবালের লাশ উদ্ধারের পর তিনি খুন হয়েছে বলে সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মইন উদ্দিন ওরফে ভাণ্ডারী নামে ইকবালের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে আটক করা হয়েছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এইচপি/এসডি-২৩